Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
করোনা ভাইরাস

‘আপেল সেদ্ধ খেয়ে দিন কাটাচ্ছি’, তিক্ত অভিজ্ঞতা করোনা-বিধ্বস্ত ইউহানের বাঙালি গবেষকের

সংবাদ প্রতিদিনকে টেলিফোনে অসহায়তার কথা শোনালেন সাম্যকুমার রায়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২০, ১৮:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২০, ১৮:১৫

options
link
‘আপেল সেদ্ধ খেয়ে দিন কাটাচ্ছি’, তিক্ত অভিজ্ঞতা করোনা-বিধ্বস্ত ইউহানের বাঙালি গবেষকের zoom

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: গণিতে উচ্চশিক্ষার জন্য চিনের ইউহানকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রি পেতে গিয়ে জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়েছে বর্ধমানের গবেষক সাম্যকুমার রায়ের। করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে গৃহবন্দি অবস্থায় নাওয়াখাওয়াও ভুলেছেন তিনি। কার্যত অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। হস্টেল থেকে ক্যান্টিন পর্যন্ত যেতে পারছেন না বছর তিরিশের বাঙালি গবেষক। চরম উদ্বেগে মা-বাবা। কেন্দ্রের কাছে তাঁদের আবেদন, চিন থেকে বাঙালি তথা ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিক। ইউহানে আটকে প্রচুর ভারতীয় ছাত্রছাত্রী। পরিস্থিতি এতটা সংকটজনক বুঝে চিন থেকে নাগরিকদের ফেরাতে কেন্দ্রের তরফে বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

বর্ধমানের কালীবাজার আমতলার বাসিন্দা সাম্যকুমার রায়। মেধাবী এই ছাত্র বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে গণিতশাস্ত্র নিয়ে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন থেকে স্নাতক হন তিনি। এরপর আইআইএসসি, বেঙ্গালুরুতে স্নাতকোত্তর এবং আইআইটি, কানপুর থেকে পিএইচডি শেষ করেন। পোস্ট ডক্টরেটের জন্য পরীক্ষা দিয়ে চলে যান চিনের ইউহান বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৯এর মার্চ মাস থেকে গবেষণায় যোগ দেন। গত ডিসেম্বরে ৪৫ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে ফিরেছিলেন সাম্য। ২১ জানুয়ারি ইউহানে ফিরে যান তিনি।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: ‘মমতা কালনাগিনী’, মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ সৌমিত্র খাঁ’র]

ততদিনে ইউহানে থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। সংক্রমণ ছড়িয়েছে, বিপদ বেড়েছে। করোনার সংক্রমণ রুখতে ইউহানকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে গোটা দেশ থেকে। এমনকী বাস, ট্রেনও বন্ধ। ফলে সেখানে ফিরে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন সাম্যকুমার রায়। সংবাদ প্রতিদিনের তরফে টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংকটের কথা, আতঙ্ক, বাড়ি ফেরার আকুতি উগরে দিয়েছেন তিনি। বলছেন, “এমনিতে এখানে এখন বেশ ঠান্ডা। তাপমাত্রা মাইনাস ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। ফলে ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি হচ্ছে নাকি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে এসব হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। চিন্তা হচ্ছে। ক্লাস হচ্ছে না। হস্টেলে ঘরের মধ্যেই বসে থাকতে হচ্ছে। ক্যান্টিনে খেতে যেতে পারছি না। কারণ, ওখানের খাবার থেকে যদি সংক্রমণ হয়ে যায়, সেই আশঙ্কা আছে। আমি একদম কাছের একটা মার্কেট থেকে সবজি, ফল কিনে তা ঘরে এনে সিদ্ধ করে খাচ্ছি। এভাবেই খিদে মেটাচ্ছি।”

[আরও পড়ুন: পিকনিকে সামান্য বচসার জেরে ইসিএল কর্মীকে পিটিয়ে খুন, গ্রেপ্তার ৬]

তিনি আরও বলেন, “এভাবে একা ঘরে এক সপ্তাহ ধরে বন্দি থাকলে তো অসুস্থ হয়ে পড়ব। এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চাইছি। চিনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। ওঁরা আশ্বস্ত করেছেন যে আমাদের সাহায্য করবেন। কিন্তু কবে সেই সাহায্য পাব, জানি না। ফ্রান্স সরকার যেমন ওঁদের দেশের ছাত্রছাত্রীদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে আলাদা করে বিমান এবং বাসের ব্যবস্থা করেছে। শহরে তো বাস চলাচল করছে না। তাই ফ্রান্সের বিশেষ বাস শহর থেকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাবে, সেখান থেকে বিমানে ওঁরা উড়ে যাবেন ফ্রান্সে। আমাদের জন্যও যদি এরকম ব্যবস্থা করা যেত।”

উদ্বিগ্ন সাম্যকুমারের মা-বাবা

সাম্যরা মা এনা রায় ছেলের জন্য অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বাবা সুজিত রায় চিন্তায় পড়লেও, তৎপর হয়ে প্রশাসনিক স্তরে সাহায্যের আবেদন করছেন। জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে ছেলেকে ফেরানোর ব্যবস্থা করার আরজি জানিয়েছেন। কেন্দ্রের কাছেও তাঁর একই আবেদন। এখন কবে করোনা-বিধ্বস্ত ইউহান থেকে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন সাম্যকুমার, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.