সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অনিয়মিত পেনশন নিয়ে ক্ষোভের মাঝেই সূত্রের খবর, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের কম-বেশি ৩১ কোটি টাকা পাচ্ছে না ভাটপাড়া পুরসভা। এই খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর ফলে পুর এলাকার উন্নয়ন-সহ নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা না দেওয়া-সহ খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এই টাকায় কোপ পড়েছে বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে পুরসভার কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম জানিয়েছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে।
সূত্রের খবর, গত শুক্রবার পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক বিপুল পরিমাণ এই টাকা পুরসভা পাবে না জানালে একাধিক চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল ক্ষোভে ফেটে পড়েন। যদিও বৈঠকে বিবাদের সূত্রপাত হয় বহুতলের সমাপ্তি শংসাপত্র (সিসি) দেওয়া নিয়ে। পুর নিয়ম অনুযায়ী প্ল্যান কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত করেই বিল্ডিংয়ের সিসি দেওয়ার কথা। সূত্রে খবর, গত দিনের বোর্ড অফ কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে ৬টি বহুতলকে সিসি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। প্ল্যান কমিটিকে এড়িয়ে বোর্ড মিটিংয়ে এই সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে চরম বিরোধিতা করে মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে যান চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল (পূর্ত) অরুণ ব্রহ্ম।
পূর্তের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সম্মতি না থাকায় তখন ভাইস চেয়ারম্যান-সহ উপস্থিত সকল চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল এই নিয়ে বিরোধিতা করে বৈঠক ছাড়েন। পরে ‘সিসি’ না দেওয়ার শর্তে বাকিরা বৈঠকে যোগ দিলেও অরুণ ব্রহ্ম মিটিংয়ে আসেননি। এরপরই পুর এলাকার দুটি জমিতে মৌখিক অনুমতিতে দেড় কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ফেন্সিং করার অভিযোগে বৈঠকে ব্যপক বিরোধিতা হয়। এরইমধ্যে এক পুর আধিকারিক পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুললে বৈঠকে পুরসভার অচলাবস্থার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাকিরা। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের দাবি করেছেন, কোনও পুরসভাই এখনও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পায়নি। তাই এখনই এই টাকা না পাওয়া নিয়ে প্ৰশ্ন তোলা অর্থহীন।