রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে কি বিজেপি প্রার্থী বদল হচ্ছে? নানা স্তরে এই জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। কেউ বলছিলেন, নিচুতলার কর্মীদের এই প্রার্থীকে ‘না-পসন্দ’। কেউ বলছিলেন, গত বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী সৌরিন্দ্রমোহন জানাকে এবার লোকসভায় প্রার্থী করতে বিজেপির একাংশ সক্রিয়। তার উপর নিয়মের গেরোয় পড়ে ঘোষিত বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস সামন্ত এখনও মনোনয়ন দাখিল না করতে পারায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হচ্ছিল। আর বৃহস্পতিবার এগরায় সভায় সেই বিতর্ককে উসকে দিলেন স্বয়ং বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “কাঁথিতে প্রার্থী বদল হতে পারে। তবে তা নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। বিজেপি জিতবে।”
[ আরও পড়ুন: দেওয়াল লিখনে হনুমান, ধর্মের নামে পুরুলিয়ায় ভোট চাইছে বিজেপি]
কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বাজকুলের বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক দেবাশিস সামন্তের নাম ঘোষণা করে। ঘোষণার পর থেকেই প্রচার শুরু করেন দলীয় প্রার্থী। দেওয়াল লিখন, প্রচার, কর্মিসভাও করেন। কিন্তু দেবাশিসবাবু সরকারি চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি হাসপাতালে। ফলে সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত কোনও ব্যক্তির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কোনও সরকারি কর্মীকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে হয়। সেই ইস্তফাপত্র সরকারিভাবে গৃহীত হওয়ার পরেই সরকারি কর্মী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেন। দেবাশিসবাবু বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলেও, তিনি চাকরিতে নিযুক্ত থাকার কারণে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারছেন না। এদিকে দেবাশিসবাবুর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে তিনি মনোনয়নপত্র জমাও দিতে পারছেন না। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৩ এপ্রিল। হাতে আর বেশি সময়ও নেই। যদিও ইস্তফাপত্র গ্রহণের জন্যে দেবাশিসবাবু কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছেন। মামলা এখনও বিচারাধীন। তাই প্রচারের প্রায় শেষলগ্নে প্রার্থী বদল করার মতো পরিস্থিতি সামনে আসায় কপালে ভাঁজ ধরেছে বিজেপি নেতৃত্বদের।
[ আরও পড়ুন: ভোটের ১১ দিন আগে নিখোঁজ ইভিএমের দায়িত্বে থাকা অফিসার, থমথমে কৃষ্ণনগর]
তাই মামলার শুনানি হওয়ার আগেই বিজেপি কাঁথি কেন্দ্রের জন্যে বিকল্প প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা উপনির্বাচনে সিপিএমকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা সৌরিন্দ্রমোহন জানার নাম উঠে এসেছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বরা আশাবাদী আদালত দেবাশিসবাবুর পক্ষেই রায় দেবে। এদিকে দেবাশিসবাবু বিজেপিতে নতুন মুখ তাই দলের অন্দরে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই। ফলে বিজেপি দলের বর্ষীয়ান নেতৃত্বরা বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার জন্যে তোড়জোড় শুরু করে দেন। দেবাশিসবাবু মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারলে সৌরিন্দ্রমোহন জানাকে প্রার্থী করলে দলের ভাঙন রোধ করা যাবে বলেও মনে করছেন দলীয় নেতৃত্বরা। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক তথা কাঁথি কেন্দ্রের নির্বাচনী কনভেনার মানস কুমার রায় জানান, ‘আইনি সমস্যার কারণ দেখা দিয়েছে কাঁথি কেন্দ্রের প্রার্থীকে নিয়ে। তাই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছেন না। আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস আছে আদালতের উপর এবং রাজ্য সরকার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে দেবাশিসবাবুকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেবেন। তবে প্রার্থী বদল হলে কে হবেন তা দল ঠিক করবে এখনই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা যাবে না।’