সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মন্তব্য বিকৃত করে অপমান করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই বাবুল সুপ্রিয়কে (Babul Supriyo) আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই নোটিসের খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন বাবুল। ওই ফেসবুক পোস্ট তিনি কার উদ্দেশে করছেন, তা উল্লেখ করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পরোক্ষে অভিষেককেই খোঁচা দিয়েছেন তিনি।
আসানসোলের বিজেপি সাংসদ সোশ্যাল মিডিয়ায় যা লিখেছেন তার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায়, ” একজন বাংলার বাড়ন্ত বাচ্চা আমাকে প্রেমপত্র পাঠিয়েছে। যা আইনজীবীদের লেখা। আমি নিশ্চিত এটা শিশুসুলভ ঔদ্ধত্য ছাড়া আর কিছুই না। কারণ আর যাই হোক এটা ভালবাসা হতে পারে না।” তিনি আরও লেখেন, “কারও নাম করিনি কিন্তু ঠাকুরঘরে কে? আমি তো কলা খাইনি। প্রতিক্রিয়া কিন্তু আসবেই।” বাবুল তাঁর পোস্টে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে অনেকেই মনে করছেন, তিনি তাঁর পোস্টের মাধ্যমে নাকি আইনি নোটিসের প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিয়েছেন।
[আরও পড়ুন: রাজ্যে ফের ‘খুন’ বিজেপি কর্মী, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব গেরুয়া শিবির]
উল্লেখ্য, রাজ্যের দুই সাংসদের তরজার সূত্রপাত মহালয়ার সকালে। ওইদিন অভিষেক (Abhishek Banerjee) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বক্তব্য রাখেন। তাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অমানবিক এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে, বাংলার নিজস্ব মস্তিষ্কপ্রসূত কর্মকাণ্ডে রাজ্যের উন্নয়নে গতি এসেছে।” ‘অমানবিক’ শব্দটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। বাবুলও এই শব্দের কারণেই মশকরা করে পালটা টুইট করেন। তিনি তাতে লেখেন, “মুখ ফসকে সত্যি কথাটা বেরিয়ে গিয়েছে। অমানবিক মুখ্যমন্ত্রী। আমি একটুও আশ্চর্য হইনি যে এটা পোস্ট করা ভিডিওতে রয়ে গিয়েছে। কারণ যাঁরা এটা শুট করেছে তারাও ‘অমানবিক মুখ্যমন্ত্রী’ দিদির অমানবিক তৃণমূলী দুষ্কর্মে এতটাই লিপ্ত যে ভুল করে ‘বেরিয়ে’ যাওয়া এই সত্যটা ওরা ধরতেই পারেনি।”
বাবুলের এই টুইটের তীব্র বিরোধিতা করেছেন অভিষেক। সে কারণেই বাবুলকে সোজা আইনি নোটিস (Legal Notice) পাঠিয়েছেন তিনি। অভিষেকের দাবি, ‘অমানবিক’ শব্দটি তিনি ব্যবহার করেননি। বাবুল সুপ্রিয় তাঁকে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমান করার জন্য এহেন ‘মিথ্যে’ টুইট করেছেন। যার ফলে অপমানিত বোধ করছেন তিনি। অবিলম্বে ওই টুইটটি ডিলিট এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।