বিপ্লবচন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণনগর: নিজের দোকানের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে খুন হয়ে গেলেন একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। দোকানের লকার রুমের কাছে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে ওই ব্যক্তির দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার (Nadia) কোতোয়ালি থানার কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) কলেজস্ট্রিট এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম গোবিন্দচন্দ্র গড়াই। দোতলাবাড়ির উপরতলায় থাকতেন ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আর নিচে রয়েছে তাঁর গহনার শোরুম। বেশ কিছুদিন ধরে
গয়নার শোরুমটি কাউকে ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইতিমধ্যেই ভাড়া দেওয়ার জন্য বেশ
কয়েকজন মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। সেইমতো বিগত সপ্তাহখানেক ধরে তার বাড়িতে
যাওয়া আসা করছিল কয়েকজন। শনিবার কাজল বিশ্বাস নামে একজন গোবিন্দবাবুর বাড়িতে যান। গোবিন্দবাবু তাকে আতিথিয়তা করে দোতালার ঘরে নিয়ে গিয়ে খাবার ব্যবস্থা করছিলেন। সেই সময় নিচ থেকে গোবিন্দবাবুর স্ত্রী কাজলবাবুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ওই ব্যবসায়ীর কথা। সেই সময় কাজল জানান, ব্যবসায়ী সেখানে নেই।
[আরও পড়ুন: হয়রানির শিকার কর্মীরা, অভিযোগ পেয়ে মঞ্চ থেকেই বিডিওকে ফোন অনুব্রতর]
এর কিছুক্ষণ পরে ওই ব্যবসায়ীর পরিবার কাজলকে দোকান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেন। এরপর আর তাঁরা গোবিন্দবাবুর কোনও সাড়াশব্দ পাননি। পরে অন্ধকার দোকানঘরের লকার রুমের কাছে থেকে মেলে ওই ব্যবসায়ীর দেহ। তড়িঘড়ি তাঁকে বাইরে নিয়ে এলে দেখা যায়, স্কিপিং করার দড়ি দিয়ে গলায় শক্ত করে ফাঁস জড়ানো। এরপর তাঁকে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, কাজলই খুন করেছে ওই ব্যবসায়ীকে। দোষী কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এবিষয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) বিদিশা কালিতা জানিয়েছেন, “পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।”