নন্দন দত্ত, সিউড়ি : এক কোটিতে একজন। এ রাজ্যে এমনই বিরল বম্বে ব্লাড গ্রুপের বাহক। চারজনের শরীরে আগে মিলেছিল। এবার মিলল পঞ্চম ব্যক্তির খোঁজ। রাজনগরে গত ১২ জানুয়ারি একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন হয়েছিল। সেখান প্রদেয় রক্ত পরীক্ষা করতেই চক্ষু চড়কগাছ। এক ব্যক্তির শরীরে বইছে ‘বম্বে ও’ গ্রুপের রক্ত। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এই খবর রাজ্যের অন্যান্য ব্লাড ব্যাংকগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এই রক্তের বাহকদের শরীরে অন্য কোনও রক্ত দেওয়া যায় না।
বম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্ত এতটাই বিরল যে গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ০.০০০৪% মানুষের শরীরে এই রক্ত রয়েছে। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডা. প্রান্তর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “এই গ্রুপের রক্ত শরীরে থাকলে অন্য কোনও গ্রুপের রক্ত রোগীকে দেওয়া যায় না। অন্যান্য সব গ্রুপের রক্তে অ্যান্টিজেন এইচ থাকলেও ‘বম্বে ব্লাড গ্রুপের’ ক্ষেত্রে থাকে অ্যান্টিবডি এইচ।” ১৯৫২ সালে বম্বেতে প্রথম বার এই গ্রুপের রক্ত চিহ্নিত করা হয়েছিল। তখন থেকেই এর নাম ‘বম্বে ব্লাড গ্রুপ’। রাজ্যে এর আগে মাত্র চার জনের রক্তে এই গ্রুপের সন্ধান মিলেছিল। এই নিয়ে দাঁড়াল পাঁচজন।
[আরও পড়ুন : বালুরঘাটে জনসংযোগে দিলীপ, দেখা করলেন বর্ষীয়ান আরএসপি নেতার সঙ্গে]
সিউড়ি হাসপাতাল সুপার শোভন দে জানিয়েছেন, রাজ্যের ব্লাডব্যাঙ্কগুলিকে এই গ্রুপের রক্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও তা লাগলে তাদের দেওয়া হবে। নচেৎ সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেলে নষ্ট করে দেওয়া হবে। সিউড়ি ব্লাড ব্যাঙ্কের স্বাস্থ্য আধিকারিক অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গত ১২ জানুয়ারি পঞ্চাশ জনের মতো রক্তের ব্যাগ আসে ব্যাঙ্কে। পরীক্ষা করতে গিয়ে এই রক্তটি আমাদের কর্মীদের নজরে আসে।”