রাজা দাস, বালুরঘাট: কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণার শিকার বালুরঘাটের কয়েক হাজার মানুষ। লোন না পাওয়ায় ওই প্রতারকদের আটকে রেখে তাদের অফিসে ভাঙচুর চালাল উত্তেজিত জনতা। ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোনের নাম করে প্রায় দুই হাজার মানুষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তুলেছে তারা।
[ আরও পড়ুন: ভারতীর প্রচারে গো ব্যাক স্লোগান, অবস্থান বিক্ষোভে বিজেপি প্রার্থী ]
জানা গিয়েছে, প্রায় মাস তিন-চারেক আগে বালুরঘাট শহরের ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ময়দানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি বিল্ডিংয়ে একটি দোকান খোলেন সঞ্জু বিশ্বাস নামের এক যুবক। এলাকার মানুষের দাবি, বিশ্বাস কম্পিউটার সলিউশন নামের ওই দোকান থেকে এলাকার মানুষদের ভুল বোঝাতে থাকে সঞ্জু এবং তার মা৷ বলেন, ‘‘তাদের দোকান থেকে অনলাইনে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা লোন-সহ নানান কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ঋণ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’ সূত্রের খবর, এরপরই থেকে লোন পাওয়ার আশায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ তাদের দোকানে ভিড় জমাতে থাকেন৷ এবং লোন মিলবে বলে দফার দফায় আবেদনকারীদের কাছ থেকে এক থেকে দশ হাজার করে নিতে থাকে সঞ্জু ও তার মা৷ কিন্তু লোন পাওয়ার নির্ধারিত তারিখে এলাকার মানুষরা লোন না পেলে তাঁদের টনক নড়ে৷ অভিযুক্তদের থেকে টাকা ফেরত চান এলাকার লোকরা। কিন্তু সঞ্জু ও তার মা ওই টাকা ফেরত না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে ওই কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সঞ্জু ও তার মা’কে দোকানে আটকে রাখেন তাঁরা৷ এবং ভাঙচুর চালান৷
[ আরও পড়ুন: অযোধ্যা পাহাড়ে জঙ্গল বাঁচাতে বিজ্ঞপ্তি জারি বনদপ্তরের ]
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বালুরঘাট থানার পুলিশ৷ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশ৷ পূজা মোহন্ত, যুথিকা দাস-সহ লোনের আবেদনকারীদের অভিযোগ, ‘‘সঞ্জু ও তার শাগরেদরা লোন আবেদনের নামে প্রথমে ২২০০ টাকা নিয়েছে৷ পরে আরও ২২০০ টাকা নিয়েছে৷ বালুরঘাট শহরের অন্তত দু’হাজার মানুষ ওদের প্রতারণার শিকার।’’ যদিও তারপর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে সঞ্জু বিশ্বাস৷ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷