বিক্রম রায়, কোচবিহার: রাজ্য জুড়ে রমরমিয়ে চলছে মাদকের চোরা কারবার৷ দিন কয়েক আগে খাস কলকাতায় নিষিদ্ধ মাদক-সহ গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচজন চিনা নাগরিক৷ উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধায় প্রশাসনিক সভায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি৷ মুর্শিদাবাদের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুর্শিদাবাদে কী করে মাদক পাচার করে চিনারা? থানার ওসি কী করছিল?’ পুলিশ সুপার, থানার আইসি ও বিডিও-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নিয়েছেন তিনি৷
[গোপনাঙ্গে লুকিয়ে নিষিদ্ধ মাদক পাচারের চেষ্টা, বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার নাইজেরিয় মহিলা]
বাবা-মা ও সন্তান৷ ছোট পরিবার৷ বয়ঃসন্ধির টানাপোড়েন, কেরিয়ারের চাপ৷ কৈশোরে পাশের থাকার মতো কেউ নয়৷ ফলে ভুলপথে পা বাড়াচ্ছেন তরুণী-তরুণীরা৷ আর এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী৷ শহর জুড়ে রমরমিয়ে চলছে মাদকের চোরা কারবার৷ কলেজে, এমনকী, স্কুলে পড়াকালীনও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন অনেকেই৷ পরিস্থিতি এমনই, যে পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে খাস কলকাতায়ই চোরাপথে মাদক সরবরাহ করছে বিদেশিরাও৷ দিন কয়েক আগে কলকাতা স্টেশন থেকে পাঁচজন চিনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ধৃতদের কাছে নিষিদ্ধ মাদক অ্যাম্ফটামাইন পাওয়া যায়৷ তদন্তকারী জানিয়েছে, অ্যাম্ফটামাইনের ‘পার্টি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিত৷ এই ড্রাগ মস্তিষ্ককে এতটাই সচল করে দেয় যে, উদ্দাম নৃত্য ও যৌন সংসর্গে দমের ঘাটতি হয় না৷ তাই এই ড্রাগটির চাহিদাও এখন তুঙ্গে৷ বস্তুত, সোমবার রাতেও গোপনাঙ্গে লুকিয়ে মাদক পাচার করতে গিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে ধরা পড়ে এক নাইজেরিয়ার এক মহিলা৷ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর আধিকারিকরা৷
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শহরে নেই৷ উত্তরবঙ্গে সফরে গিয়েছেন তিনি৷ মঙ্গলবার কোচবিহারের চ্যারাংবান্ধায় প্রশাসনিক বৈঠকে মাদকের চোরা কারবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পুলিশ যে সঠিক ভূমিকা পালন করছে না, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ মুর্শিদাবাদের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুর্শিদাবাদে কী করে মাদক পাচার করে চিনারা? থানার ওসি কী করছিল?’ এলাকায় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ নিয়ে পুলিশ সুপার, থানার আইসি ও বিডিও-দের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷
ছবি: দেবাশিস বিশ্বাস
[চিনা মাদক পাচারকারীদের জেরা করতে শহরে মার্কিন গোয়েন্দারা]