বিক্রম রায়, কোচবিহার: জুলাই মাসের ১৩ তারিখ ঘটেছিল ঘটনাটি। বাইকে করে এসে কোচবিহার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাজিদ আনসারিকে গুলি করে পালিয়ে যায় তিন দুষ্কৃতী। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি মাজিদকে। বুধবার রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে কোচবিহার কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিট আহ্বায়ক। ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বিচারের দাবিতে তাই কলেজের সামনেই ব্লেড হাতে নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েছেন কোচবিহার কলেজের পড়ুয়ারা। সহপাঠী হত্যার বিচার না পেলে গণ আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
[পরিচিত যুবকের বাড়ি থেকে উদ্ধার কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ, চাঞ্চল্য বাগনানে]
জানা গিয়েছে, ১৩ তারিখ দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরছিলেন কোচবিহার কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিট আহ্বায়ক মাজিদ আনসারি৷ হেঁটেই রেলগুমটি এলাকায় পৌঁছান তিনি৷ সেই সময় পিছন দিক থেকে বাইকে করে আসে তিন দুষ্কৃতী৷ মাজিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা৷ গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মাজিদ৷ স্থানীয়রাও ভরদুপুরে গুলির শব্দে হতচকিত হয়ে যান৷ শব্দ শুনেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এলাকাবাসী৷ সুযোগ বুঝেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা৷ তারপর থেকেই শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন মাজিদ। লড়াই শেষ হয় বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। নার্সিংহোমেই মৃত্যু হয় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রের।
[নামী কোম্পানির মোড়কে বিষ ঢুকছে কেক-বিস্কুটে, দুর্নীতিদমন শাখার অভিযানে পর্দাফাঁস]
মাজিদের মৃত্যুর খবরেই উত্তাল হয়ে ওঠে কোচবিহার কলেজ চত্বর। কলেজের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েছে তাঁরা। অনেকের হাতে ব্লেডও রয়েছে। মাজিদের মৃত্যুর উপযুক্ত বিচার না পেলে গণ আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ইতিমধ্যেই এক ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কোচবিহার জেলায় ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ছবি- দেবাশিস বিশ্বাস
[সংগঠন বাড়াতে নবীনেই আস্থা, গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রনেতা কিশোরকে আনল বিজেপি]