পলাশ পাত্র, তেহট্ট: পুলিশ আবাসনে সামান্য গণ্ডগোল। তা থেকে নদিয়ার তেহট্টে তুমুল অশান্তি। ওসির আবাসন ও থানা ঘিরে ফেলে প্রায় দু’হাজার জনতা। থানার গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে তাণ্ডব। গভীর রাতে থানারপাড়া থানার ওসিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এক অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ওসির বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
[দশম দিনেও অচল পাহাড়, খাদ্যসংকটেও পিছিয়ে আসতে নারাজ মোর্চা]
যেন পাঁচ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ২০১২ সালে উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে শূন্যে গুলি চালিয়ে ছিলেন তেহট্টের এসডিপিও। এবার মারমুখী জনতার হাত থেকে বাঁচতে শূন্যে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল ওসির বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল সেই নদিয়া। এবার তেহট্টের থানারপাড়ায় আক্রান্ত হল পুলিশ। থানারপাড়া থানার কাছেই রয়েছে পুলিশকর্মীদের আবাসন। ওই আবাসনের নিচে সিমেন্টের গুদাম রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুদাম মালিক খেতমত শেখের ভাই সাদিফুল মণ্ডলের সঙ্গে সিমেন্ট নামানো নিয়ে এক গাড়িচালকের বচসা হয়। কথা কাটাকাটিতে বিরক্ত হন আবাসনে থাকা ওসি অনিমেষ দে। অভিযোগ, ওই পুলিশ অফিসার সাদিফুলকে মারধর করেন। আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা নিগ্রহে যোগ দেন। এরপর ওসির নির্দেশে সাদিফুলকে থানার লক আপে ঢোকানো হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তে স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। প্রায় দু’হাজার জনতা অনিমেষবাবুর আবাসন ঘিরে ফেলে। ওসির আবাসনের দুটো গেট ভেঙে ফেলার পর শেষ গেট ভাঙার চেষ্টা চলে। অভিযোগ আতঙ্কিত হয়ে ওসি শূন্যে গুলি চালান। আবাসনের ভিতরে বিক্ষুব্ধরা ঢুকে পুলিশের তিনটে গাড়ি ভাঙচুর করে। দুটি মোটরবাইকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে চেহারা নেয়। প্রায় চার ঘণ্টা তাণ্ডব চলার পর গভীর রাতে চারটি থানার ওসি, সিআই ও জেলা পুলিশের বড় কর্তারা অনিমেষ দেকে উদ্ধার করেন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।
[রামনাথ কোবিন্দ রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী, প্রথম কে আঁচ করেছিলেন জানেন?]
গভীর রাতে উত্তেজিত জনতাকে পুলিশ সরিয়ে দেয়। তখনও, বিক্ষুব্ধরা ওসিকে সরানোর দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে থাকে। যাকে নিয়ে গণ্ডগোল সেই সাদিফুল মণ্ডলকে রাতের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অনিমেষ দে মাসখানেক আগে থানারপাড়া থানার ওসির দায়িত্ব নেন। তারপরই এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়েছিলেনন। মঙ্গলবারের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সুপার শীষরাম ঝাঝারিয়া বলেন, ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।