সুব্রত বিশ্বাস: আনলক ওয়ানে একের পর এক রেল কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংক্রমণ। এবার করোনা থাবা বসাল দক্ষিণ পূর্ব রেলের কয়লাঘাটা দপ্তরে। এই দপ্তরেরই এক প্রবীণ কমার্শিয়াল ক্লার্কের শরীরে মিলল ভাইরাসের সন্ধান। তাঁর সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় রেলের বাকি ১৪ জন কর্মীকে।
লকডাউনের আনলক পিরিয়েডে করোনা আতঙ্কে কাঁটা রেলের কর্মীরা। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। এদিন রেলবোর্ডের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, কোনওভাবেই করোনা রিপোর্ট গোপন করা যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে জোন, ডিভিশন একেবারে এলাকা ভিত্তিকভাবে রেলবোর্ডকে জানাতে হবে। ফলে কয়লাঘাটা দপ্তরের এক প্রবীণ কমার্শিয়াল ক্লার্কের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পরেই ভয় দেখা দেয় বাকি কর্মীদের মধ্যে। এই কর্মীর সংস্পর্শে আসা বাকি ১৪ জন কর্মীকেও পাঠানো হয় গার্ডেনরিচের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। তাঁদের লালরস পরীক্ষা করা হয়। কয়লাঘাটার ন-তলার দক্ষিণ পূর্ব রেলের কমার্শিয়াল দপ্তরেই বসতেন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি। এখানেই রয়েছে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের দপ্তরও। বর্তমানে পুরো অফিসটিকে স্যানিটাইজ (Sanitise) করা হচ্ছে।
[আরও পড়ুন:কেজরির মন্ত্রিসভায় এবার করোনার থাবা, আক্রান্ত উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিসোদিয়া]
কয়লাঘাটার এই ভবনে রয়েছে পূর্ব রেলের একাউন্ট বিভাগ (Account Department), আরপিএফ (RPF) বিভাগ-সহ একাধিক দপ্তর। একেবারে নিচের তলায় রয়েছে রিজার্ভেশন কাউন্টার। ফলে এই ভবনে একজনের থেকেই বাকিদের সংক্রমন ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল। কর্মীদের কথায়, “আমাদের একই সিঁড়ি ও লিফট ব্যবহার করতে হয়। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা অমূলক নয়।”
[আরও পড়ুন:বাংলাদেশে রেকর্ড গড়ল সংক্রমণ! একদিনেই আক্রান্ত ৪০০৮ জন]
মঙ্গলবার লুধিয়ানা হাসপাতালে ফিরোজপুর ডিভিশনের সিনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রাজকুমার করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। এরপরই অসংখ্য রেল আধিকারিক ও কর্মীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। করোনা পরিস্থিতিতে রেলের পার্সেল পরিষেবা ও শ্রমিক ট্রেন, স্পেশাল ট্রেন চালানোতে যুক্ত থাকতে হচ্ছে রেলকর্মীদের। তাতেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কর্মী সংগঠনগুলি আবেদন করেও এক্ষেত্রে কোনওরকম সমাধান সূত্র লাভ করতে পারেননি অধিকারিকদের থেকে। ফলে সংক্রমণের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে কাজ করতে এসে প্রাণের বলি দিতে রাজি নন রেলের কর্মীরা। তাই অনেকেই কাজ যোগদান দিতে নারাজ।