সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হুগলির গোঘাটে বেনজির আক্রমণের শিকার সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করা হয় কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রকে। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে গোঘাটের উল্লাসপুরে। শুধু বিকাশই নন, তাঁর সঙ্গে আক্রান্ত হন ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র সদস্যরাও। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের রাস্তায় ফেলে মারধর করে। সামনেই পুলিশ নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা তো নেয়নি উল্টে তাঁদের ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানিয়েছেন বিকাশরা। বাধ্য হয়েই ভাবাদিঘি না গিয়ে গোঘাট থেকই ফেরত আসতে হয় তাঁদের। নিগ্রহের ঘটনা অস্বীকার কতরেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। গোঘাটের তৃণমবল বিধায়ক মানস মজুমদারের পাল্টা অভিযোগ, এলাকায় ঢুকে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন বিকাশবাবুরা। এই ঘটনায় তৃণমূল কোনওভাবেই জড়িত নয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সিপিএম আমলে শহিদ হওয়া তৃণমূলের কর্মীদের পরিজনরাই ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র সদস্যদের ঘইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কিন্তু মারধরের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রুটে রেললাইনের কাজ জমি জটে আটকে পড়ে রয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, জমি দিতে নারাজ পরিবারগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করছে তারা। সেই সব অনিচ্ছুক পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে ভাবাদিঘি যাচ্ছিলেন বিকাশবাবুরা। কিন্তু তার আগেই গোঘাটের উল্লাসপুরে এই ঘটনা। অভিযোগ, ৩০-৪০ জন তৃণমূল কর্মী রাস্তা আটকায়। তারপর গাড়ি থেকে বিকাশবাবু ও অন্যান্যদের টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করে। বিকাশবাবুর অভিযোগ, তাঁকে কিল, চড়, ঘুসি মারা হয়েছে। পিঠে মারাত্মক চোট পেয়েছেন তিনি। মহিলাদেরও রেয়াত করা হয়নি বলে অভিযোগ। কলকাতায় ফেরার পথে আরামবাগের মহকুমাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র সদস্যরা। বিকাশবাবু জানিয়েছেন, ‘জীবনে এমন ঘটনার কোনোদিন মুখোমুখি হতে হয়নি। এই সব তৃণমূলকর্মীরা সব কিছু করতে পারে।’ এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিকেল পাঁচটায় এন্টালি মার্কেট থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করে বামফ্রন্ট।