সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা তো দূর-অস্ত, লকডাউনের মাঝে কোনও নিয়ম না মেনেই নিয়মিত নমাজ পাঠ চলছে শান্তিপুরের মসজিদে। খবর পেয়ে খোদ কাউন্সিলর কথা বলেন পারিবারিক ওই মসজিদের মালিকের সঙ্গে। লকডাউনের নিয়ম মেনে নমাজ পাঠের জন্য আবেদনও করেন তিনি। এই ঘটনায় সংক্রমণের আতঙ্কে কাঁটা স্থানীয়রা।
ঘটনাটি শান্তিপুর পুরসভার কে সি দাস রোডের মণ্ডল মসজিদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, লকডাউনে জমায়েতে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও শবেবরাতে নমাজ পাঠ করা হয় ওই পারিবারিক মসজিদে। কোনও দূরত্ব বজায় না রেখেই। শুধু শবেবরাতেই নয়, এই পরিস্থিতিতেও নিয়মিত ওই মসজিদে ভিড় করে নমাজ পাঠ করা হয় বলেই অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের কথায়, একাধিকবার এবিষয়ে তাঁরা আপত্তি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি মসজিদের মালিক। অবশেষে গোটা বিষয়টি জানিয়ে শান্তিপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৌমেন মাহাতোর দ্বারস্থ হন স্থানীয়রা। ঘটনাটি জানানোর পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংক্রমণের। এরপরই ওই মসজিদের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন কাউন্সিলর।
[আরও পড়ুন: ‘রাজ্যে রাজনৈতিক রং দেখে রেশন বিলি হচ্ছে’, কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রীকে চিঠি স্বপন দাশগুপ্তর]
এ বিষয়ে কথা বলা হলে সৌমেন বাবু জানান, “কয়েকদিন আগে স্থানীয়দের মারফত এই বিষয়টি আমি জানতে পারি। এরপরই মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। জমায়েত না করে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে দু থেকে তিনজনের নমাজ পাঠের ব্যবস্থা করার আবেদন জানাই।” কিন্তু আদৌ কাউন্সিলরের আবেদন মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। প্রসঙ্গত, শুক্রবারই লকডাউন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এসবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জুম্মার নমাজ পড়তে মুর্শিদাবাদের গোপীপুর মসজিদে একত্রিত হয়েছিলেন কয়েকহাজার মানুষ। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনীকে। সংক্রমণ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র-রাজ্য, কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন এখনও সচেতন হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ, উঠছে প্রশ্ন।