অংশুপ্রতীম পাল, খড়গপুর: বিজেপির পঞ্চায়েতের পরিচালনায় একটি কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার দুপুরে তিনি খড়গপুর গ্রামীণ থানার অর্জুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের খেমাশুলি এলাকায় একটি স্কুলের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে আসেন। সাংসদ দিলীপ ঘোষের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও সাংসদকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।
এইদিন তিনি পৌঁছানোর পর ছয় নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে হেঁটে স্কুলের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। সমস্ত বিষয় নিয়ে খোঁজ খবর নেন। তারপর এই কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে মেদিনীপুর শহরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা দেখাতে চাইছি কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র কেমন হওয়া উচিত। যে মানুষগুলো অনেক কষ্ট, দুঃখ সহন করে রাজ্যে ফিরে এসেছেন তাঁরা যেন নিজেদের অপাংক্তেয় মনে না করেন তার জন্য আমরা নিজেদের দায়িত্বে পরিচালনা করছি।” তবে এই কেন্দ্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের এখনও পর্যন্ত লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি বলে তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন ” এই কেন্দ্রে রাখা মানুষগুলির নমুনা নেয়নি। টেস্ট করেনি। আলাদা রাখা হয়েছে মাত্র। এই অব্যবস্থা ও অমানবিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার।”
[আরও পড়ুন: ‘ঘুমোচ্ছেন সাংসদ, হর্ন বাজাবেন না’, শ্রমিক স্পেশ্যালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় প্ল্যাকার্ড হাতে পুরুলিয়ার যুবকরা]
পাশাপাশি তিনি বলেন, এই রাজ্যে প্রথম থেকে তথ্য চেপে রাখার চেষ্টা করেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি গড়িয়ার শ্মশানে ১৪টি মৃতদেহ সৎকার করার চেষ্টা নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, এই ১৪টি মৃতদেহ করোনা আক্রান্ত রোগীদের। পরিবারের সদস্যদের কিছু না জানিয়ে সৎকার করার চেষ্টা হচ্ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে সিপিএম ও কংগ্রেস জোটের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তিনি এইদিন উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিপিএমের এমন অবস্থা যে কোরামিন বা স্যালাইন দিলেও উঠে দাঁড়াতে পারবে না। এইদিন দিলীপ ঘোষের সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো, দলের জেলা সভাপতি সমিত দাস-সহ অনেকে।