দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: মদ খাওয়ার সময় ছুরিতে হাত কেটেছিল মায়ের। তৎক্ষণাৎ মা-মেয়ে মদের আসর থেকে উঠে চলে যায় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে (Canning Sub -divisional Hospital)। কিন্তু কীভাবে কাটল হাত? চিকিৎসকরা এই প্রশ্ন করতেই বাঁধল গোল। গভীর রাতে মদ্যপ মা-মেয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালাল ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। অবশেষে ক্যানিং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে ক্যানিংয়ের স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে এক মদ্যপ তরুণী উপস্থিত হয় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। সঙ্গে ছিল তাঁর বছর পঞ্চাশের মা। মাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে ঢুকেই চিৎকার করতে থাকে ওই তরুণী। তখন হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন চিকিৎসক দেবারতী দাস ও রণদীপ মজুমদার। অভিযোগ, কোনও কারণ ছাড়াই রণদীপ মজুমদারের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয় ওই মদ্যপ যুবতী ও তাঁর মা। এমার্জেন্সি রুমের মধ্যেই চিকিৎসক দেবারতী দাসের গলা টিপে ধরেন তাঁরা। বিষয় বেগতিক বুঝে হাসপাতালের অন্য কর্মীরা উদ্ধার করে ওই ডাক্তারকে। ঘটনার জেরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় হাসপাতালে।
[আরও পড়ুন: গোসাবার বিধায়কের বাড়ি থেকে উদ্ধার যুবকের ঝুলন্ত দেহ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা]
খবর পেয়ে গভীর রাতে সেখানে যায় ক্যানিং থানার পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁদের দেখেই চম্পট দেয় দুই অভিযুক্ত। এ বিষয়ে আক্রান্ত চিকিৎসকরা বলেন, “মা-মেয়ে দুজনেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। আমরা তাঁদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁরা অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মধ্যে চিৎকার করতে থাকে। চিকিৎসকদের ঘরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। ঘরের কাঁচের দরজায় লাথি মারতে থাকে।” এ বিষয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার পরিমল ডাকুয়া বলেন, “বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে এরকম ব্যবহার সত্যিই খুব দুর্ভাগ্যজনক।”