সম্যক খান, মেদিনীপুর: চিন ফেরত খড়গপুরের চারজনকে বিশেষ নজরদারিতে রাখতে চলেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। গোপনীয়তার স্বার্থে ওই চারজনের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা জানিয়েছেন, বুধবারই কলকাতা থেকে তাঁদের কাছে ওই চারজনের বিষয়ে তথ্য হাতে এসেছে। খুব শীঘ্রই তাঁদের কাছে যাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইন মেনেই ১৪ দিন তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্ত রকমের পদক্ষেপও নেওয়া হবে। এদিকে মাত্র একদিন আগেই করোনা ভাইরাস রুখতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তা নিয়ে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি নির্দেশনামা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে এসেছে। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এমনকি মহকুমা হাসপাতালগুলির সুপারকেও উদ্দেশ্য করে একগুচ্ছ গাইডলাইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিন থেকে যে চারজন ফিরে এসেছেন তাঁরা খড়গপুরের ঝাপেটাপুর ও তালবাগিচার বাসিন্দা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তাঁরা ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতে ফিরেছেন। বুধবারই তাঁদের কাছে সেই তথ্য এসেছে। তাঁরা কেমন আছেন, আদৌ তাঁরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কী না তা খতিয়ে দেখতে তাঁদের বাড়ি বাড়ি যাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদেরকে আপাতত ১৫ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। করা হবে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও। বেগতিক কিছু দেখলে তাঁদের পাঠানো হবে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে।
[আরও পড়ুন: রিয়াকে বিয়ের পরেও শাশুড়ির সঙ্গে প্রেম করত সাদ্দাম! হলদিয়া কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য]
এদিকে, সম্প্রতি আরও একজন খড়গপুরের বাসিন্দা চিন থেকে এদেশে ফিরেছেন। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেছেন, “ওই ব্যক্তি এখনও শহরে প্রবেশ করেননি। দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে মহারাষ্ট্রের পুনেতে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি খড়গপুরে ফিরলে তাঁকেও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।” রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী করোনা ভাইরাস রুখতে জেলাজুড়ে সমস্ত রকমের পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে। জ্বর, সর্দি, কাশির মতো যেকোনও লক্ষ্মণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুখে ট্রিপল লেয়ার মাস্ক থেকে শুরু করে বারে বারে হাত ধোওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিলি করা হবে প্রচারপত্রও। গিরিশবাবু বলেছেন, “জেলার সমস্ত হাসপাতালকেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একাধিকবার বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও।” অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।