সুনীপা চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রাম: এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে দলমা হাতির দল। তাদের ছবি তুলতে গিয়েই এবার মৃত্যু হল এক চিত্র সাংবাদিকের। আশিস শিট নামে বছর পঁয়ত্রিশের ওই সাংবাদিকের সঙ্গে থাকা আরও একজন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল থানার আতাড়িয়া গ্রামে। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে শোকের ছায়া ওই সাংবাদিকের পরিবারে।
দলমার দাঁতালদের তাড়াতে শনিবার রাত থেকেই ড্রাইভ চলছিল। আর ভোরবেলা তা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে একটি গাড়ি করে চিত্র সাংবাদিক আশিস শিট-সহ চারজন গিয়েছিলেন আতাড়িয়া গ্রামে। স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দলের চার জনের মধ্যে একজনের আত্মীয়র বাড়ি সাঁকরাইলে। তাঁরা সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে এলাকায় হাতি রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে হাতির দলকে দেখতে যান। তাঁরা কোনও সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফার কিনা, তা জানা যায়নি।
[আরও পড়ুন: ফের ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু, শোকের ছায়া বীরভূমে]
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, চারজনের ওই দলটি জঙ্গলের বেশ খানিকটা ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। স্ট্যান্ড লাগিয়ে জুম করে ছবি তুলছিলেন তাঁরা। এমনিতেই হাতি দেখতে এলাকায় কয়েক হাজার লোক জমে গিয়েছিলেন। এসব দেখে হাতির দলটি বেশ বিরক্ত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় দলটির একেবারে মাঝে পড়ে যান ওই ফটোগ্রাফাররা। একটি হাতি আশিস শিটকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে। তাঁকে গুরুতর
জখম অবস্থায় স্থানীয়রাই উদ্ধার করে তাঁদেরই গাড়িতে সাঁকরাইল ব্লকের ভাঙাগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তাঁকে মেদিনীপুরের স্থানান্তরিত করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। মেদিনীপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, এই ফটোগ্রাফারদের মধ্যেই একজন এখনও নিখোঁজ। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কলাইকুন্ডার দিক থেকে একটি বড় দলমা হাতির দলকে ড্রাইভ করা হচ্ছিল। দাঁতালের দলটি সাঁকরাইল ব্লকে ঢুকে ছিল। দলের প্রায় পনেরোটি হাতি আলাদা হয়ে খুদমড়াই অঞ্চলের আতাড়িয়ার জঙ্গলে রয়ে যায়। সেই দলটিকে দেখতে এলাকায় কয়েক হাজার লোক জমে যায়। চারিদিকে এত লোক জমে যায় যে দল বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। দলে শাবক হাতিও রয়েছে। আর শাবক থাকলে এমনিতেই বড় হাতিরা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকে। সেই সময়েই দলের মাঝে মানুষজন, ক্যামেরা এসব দেখে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। আর তাই ওভাবে একজনকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলেছে বলে বন আধিকারিকদের অনুমান। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ না মেলা পর্যন্ত উদ্বেগে বনদপ্তরের কর্তারা।
[আরও পড়ুন: মহিলার উপর ‘ভর’ করেছেন দেবী! মায়ের নির্দেশে ফের অকাল কালীপুজো গ্রামে]
এই বিষয়ে খড়্গপুরের ডিএফও অরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওনারা কতজন ছিল তা পরিষ্কার নয়। একজন মারা গিয়েছেন। আশিস শিট নামে ওই ব্যক্তির বাড়ি হাওড়া জেলায় বলে জানা গিয়েছে। কেউ জঙ্গলে আটকে রয়েছেন কিনা, তা দেখা হচ্ছে।”
ছবি: প্রতীম মৈত্র।