সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের গ্যাস লিক করে আতঙ্ক এলাকায়! ঘটনাস্থল সেই হাওড়া। উলুবেড়িয়ায় একটি রাসায়নিকের কারখানাতে মজুত করে রাখা গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে ঝাঁজালো গ্যাস বেরিয়ে আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়। হাওড়া উলুবেরিয়া বৃশ্চিকপুর অঞ্চলের পালোরা এলাকার। রবিবার সকাল থেকেই গোটা এলাকা তীব্র ঝাঁজালো গন্ধে ভরে যায় , জ্বালা করতে থাকে চোখ-মুখ। জানা যায়, এলাকার একটি রাসায়নিক পদার্থের গোডাউন থেকে ওই গন্ধ বেরোচ্ছে। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় উলুবেরিয়া থানায় ও দমকলে।
[পঞ্চায়েত ভোটের উৎসবে রাজ্যের কোষাগার থেকে খসতে চলেছে বিপুল অর্থ]
এর আগেও মেয়াদ উত্তীর্ণ সিলিন্ডার থেকে লোহার ছাঁট বের করার সময় গ্যাস লিক হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল হাওড়ায়। ‘বিষাক্ত’ গ্যাসের সিলিন্ডারগুলি সে সময় ফেলে দেওয়া হয় গঙ্গায়। এদিন ফের একই আতঙ্কই যেন ফিরে এল। রবিবার সকালবেলা আচমকাই রাসায়নিকে ঠাসা একটি গুদাম থেকে ঝাঁজালো গ্যাস বেরনোর গন্ধ পান এলাকাবাসীরা। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন প্রায় ঘরছাড়া ২০০টি পরিবার। আক্রান্ত হন মহিলা-শিশুরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ। জল, বালি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজ চলে। দমকলকর্মীরা গ্যাস নিরোধক মাস্ক পরে নেমেছিলেন। কিন্তু এলাকাবাসীর কাছে কোনও মাস্ক না থাকায় তাঁরা রেহাই পাননি। ঝাঁজালো গ্যাসের প্রভাবে কারও চোখ থেকে জল বেরোতে থাকে, কারও শ্বাসকষ্ট হয় বলে জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারাই।
দমকল অবশ্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গ্যাসের উৎসস্থল খুঁজে বের করে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টায় নামেন। দমকল সূত্রে খবর, ওই গুদাম থেকে কোনওভাবে বেনজাইল সায়ানাইড ঠাসা সিলিন্ডার ফেটে গ্যাস বেরিয়ে পড়েছিল। ওই গ্যাসই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের লোকেদের চোখ, মুখ জ্বালা করতে থাকে। দমকলকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, এই গ্যাস মারাত্মক ক্ষতিকারক নয়। তাছাড়া দুপুরের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আনা গিয়েছে। যেটুকু গ্যাস এলাকায় এখনও ছড়িয়ে রয়েছে, তাতে কারও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানাচ্ছে দমকল। গুদামে কীভাবে ওই গ্যাস মজুত করে রাখা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। গুদামটির মালিক আলতাফ হোসেন পলাতক। পুলিশ একজনকে আটক করেছে।