রাজ কুমার, আলিপুরদুয়ার: অসমের উদালগুড়িতে নরবলির ঘটনা নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ। এমন ভয়ংকর ঘটনা কিন্তু ঘটে যেতে পারত এই বাংলায়। শনিবার বিপত্তারিনী পুজোর দিন শেষমেশ অবশ্য ওই অঘটন ঘটেনি। যে যুবতীকে বলি দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যেতে এসেছিল দুষ্কৃতীরা, গ্রামবাসীদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। হাতেনাতে ধরা পড়েছে তিনজন দুষ্কৃতী। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার দুই নম্বর ব্লকের দক্ষিণ পারোকাটা গ্রামের বাড়ুইপাড়ার। ধৃতদের দশগদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
[আরও পড়ুন: বিজেপি সমর্থক হওয়ার ‘শাস্তি’? পুকুরে বিষ মেশানোর অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে]
লম্বায় হওয়া চাই ছয় ফুট। এবং অবশ্যই অবিবাহিত। বলি দেওয়ার জন্য এমনই যুবতী খুঁজছিল দুষ্কৃতীরা। জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ুইপাড়া অবিবাহিত মেয়ে গীতাকে (নাম পরিবর্তিত) বাইরে কাজের লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যেতে আসে বেশ কয়েকজন। স্থানীয় মহিলা মঞ্জু দাস ও তাঁর স্বামী অনিল দাসের সহযোগিতায় দুষ্কৃতীরা গাড়ি নিয়ে হাজির হয় এলাকায়। গীতার বাবাকেও টাকা পয়সার লোভ দেখানো হয়। ঠিক সেই সময়েই গ্রামের লোকেরা টের পেয়ে দুষ্কৃতীদের ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ভাটিবাড়ি পুলিশ গিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। বাকিরা পালিয়ে যায়। ধৃত তিনজনকে জেরা করে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, বলি দেওয়ার জন্যই ওই যুবতীকে বাছাই করেছিল দুষ্কৃতীরা। ছয় ফুট লম্বা অবিবাহিত মহিলা খুঁজছিল তারা। ভাটিবাড়ি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নরবলি দেওয়ার কারণেই ওই যুবতীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে কোন মন্দিরে, কখন এই নরবলির ঘটনা সম্পন্ন করা হত, সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতেরা হল ঝুটন সরকার, সুশান্ত অধিকারী ও সুভাষ বর্মন। ঝুটনের বাড়ি কোচবিহারের ডাউয়াগুড়িতে। সুশান্তর বাড়ি কোচবিহারের বক্সিরহাট থানার নাগুরহাট গ্রামে। সুভাষ কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দা। এই তিনজনকেই এখন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, যে যুবতীকে দুষ্কৃতীরা টার্গেট করেছিল, তাঁরা ছয় বোন। পাঁচ বোনের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অবিবাহিত বোনটি ছয় ফুট লম্বা। একটি পা-এ সামান্য ত্রুটি রয়েছে। একটি চোখেও সমস্যা রয়েছে। এইরকম এক মেয়েকে বাইরে কাজে নিয়ে যাওয়ার জন্য এত চেষ্টা কেন, তা নিয়েই গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। তখনই দুষ্কৃতীদের ঘিরে ধরে পুলিশে খবর দেন তাঁরা।