সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বৃষ্টিকে পরাস্ত করে পবিত্র সম্পর্কের বন্ধনের টুকরো কোলাজে বাঁধা পড়ল বাঙালির। সেলেব থেকে পর্ণকুটিরবাসী। সব বোনেদের মুখে ধ্বনিত হল, “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা।”
ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা। ভাই-বোনের বন্ধনের আবেগ মাখা একটি দিন। আর সে দিনটা এভাবে ভেস্তে যাবে? কালীপুজো ভেসেছে। ভাঁইফোটাতেও আগে থেকেই নিম্নচাপের চোখ রাঙানি ছিল। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ভাইদের দীর্ঘায়ু কামনায় ফোঁটা দিল বোনেরা। নেতা থেকে মন্ত্রী। অভিনেতা-অভিনেত্রী। কিংবা আম ভাইবোনেরা। ভাইফোঁটা দিতে বা নিতে কেউ মিস করেননি। কিন্তু এদিনও কাচের গুড়োর মতো বৃষ্টি ঝরে চলেছে অঝোরে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় জলও জমেছে। তবে প্রত্যাশামতোই শনিবার সকাল থেকে উত্তর ও উত্তরপূর্বের দিকে ক্রমশ সরে যাচ্ছে নিম্নচাপটি। ফলে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেইসঙ্গে এদিন সন্ধ্যার পর থেকে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা-সহ নদিয়ায় আকাশ পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
[বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভাইফোঁটায় শামিল যৌনকর্মীরাও]
বৃষ্টি কোনও প্রভাব না ফেললেও ভাইফোঁটার আয়োজনে পকেটে টানা বাঙালির। বাজারে জিনিসপত্রের দাম আগুন। মানিকতলা, কলেজস্ট্রিট, শিয়ালদহ থেকে শুরু করে দক্ষিণের গড়িয়াহাট, লেক ও টালিগঞ্জ বাঁশদ্রোণীর বাজারের পারদ এক লাফে অনেকটাই উঠে গিয়েছে। একই ছবি তমলুক, বর্ধমান, বোলপুর, কৃষ্ণনগর, বারুইপুরেও। মুরগি বা খাসির মাংস কিলোতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়লেও মাছের দর কিন্তু দু’দিন আগের চেয়ে একলাফে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কিলোতে ১২-১৪টি হয় এমন বাগদা চিংড়ি ২৪ ঘণ্টা আগে ৭০০-৮০০ টাকা কিলো ছিল। সেটাই ভাইফোঁটার অর্ডারে এক লাফে ১০০০-১২০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হয়েছে। একই হাল মিষ্টির দোকানের। ২৫ টাকার সুস্বাদু মিষ্টি ৪০ টাকায় কলকাতায় বিক্রি হলেও জেলায় নাকি সাইজ ছোট হয়েছে বলে অভিযোগ।
সবমিলিয়ে ভালয়মন্দয় কাটছে দিনটি। তবে দক্ষিণবঙ্গ থেকে নিম্নচাপ বিদায় নেওয়ার বার্তাই সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। রবিবার থেকে আবহাওয়া খানিকটা হলেও ঠান্ডা হবে বলে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর।