অরূপ বসাক, মালবাজার: ভূটান পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টি। উত্তরবঙ্গে বন্যার ভ্রুকুটি। বানভাসি সাধারণ মানুষ। বিপদে পড়েছে বনের জন্তুরাও। প্রাণ বাঁচাতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি, অজগর সাপ! বুধবার গভীর রাতে কালিম্পংয়ের বনবস্তিতে তাণ্ডব চালাল তিন দাঁতাল হাতি। ভেঙেছে সাতটি বাড়ি। তছনছ ভুট্টার ক্ষেত, কলাবাগান। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে মালবাজারের রাজাডাঙার একটি গ্রামে ঢুকে পড়ে অজগর সাপ। সাপটিকে উদ্ধার করেছেন বনকর্মীরা।
[জলমগ্ন উত্তরবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা, দক্ষিণেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা]
পাহাড়ের রাত নামে অনেক তাড়াতাড়ি। দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি। সন্ধ্যে নামতে না নামতেই ঘুমিয়ে পড়েন বনবসতির বাসিন্দারা। বুধবার রাতে তখন তুমল বৃষ্টি হচ্ছে, কালিম্পংয়ের মংপুর বনবসতিতে ঢুকে পড়ে তিন দাঁতাল হাতি। বনবসতির বাসিন্দারা জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টা ধরে হাতির দল তাণ্ডব চালিয়েছে। চাল, ধান, ভুট্টা, কলা তো খেয়েইছে, ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে সাতটি বাড়িও। ঘরের ভিতর থেকে সবই টের পাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্ত, প্রবল বৃষ্টিতে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার উপায় ছিল না। ভয়ে খাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কোনওরকমে রাতটা কেটে যায়। ভোরের দিকে জঙ্গলে ফিরে যায় হাতি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বনবসতির বাসিন্দারা। কালিম্পংয়ে মংপুর বনবসতির বাসিন্দারের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরেই নিয়মিত লোকালয়ে ঢুকছে হাতির দল। কিন্তু বনদপ্তরের কোনও হেলদোল নেই। বৃহস্পতিবার সকালে যথারীতি মংপু বনবসতি ঘুরে গিয়েছেন বনকর্মীরা। মংপু এলাকার বিট অফিসার সুপ্রতীক ঘটক অবশ্য বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা যদি লিখিত অভিযোগ জানান, তাহলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। বৃহস্পতিবার থেকে এলাকায় ঢহল দেবেন বনকর্মীরাও।
এদিকে আবার মালবাজারের রাজডাঙার মাহাতালটান গ্রাম থেকে একটি অজগর সাপটি উদ্ধার করেছে বনদপ্তর। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে একটি পাখি শিকার করেছিল অজরগটি। গাছে নিচে বসে খাওযার সময়ে সাপটি দেখতে পান তাঁরা। খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরে। অজগরটি উদ্ধার করে গরুমারা জঙ্গলে ছে়ড়ে দিয়েছেন বনকর্মীরা। মাহাতালটান গ্রামের কাছেই কাঠামবাড়ির জঙ্গলে। বনদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে বৃষ্টিতে জল জমে গিয়েছে জঙ্গলে। তাই লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল প্রায় ১২ ফুট লম্বা ওই অজগর সাপটি।
[সুন্দরবনে বাঘ নিগ্রহে ধৃত ১২, সেলফির অত্যাচারে বীরভূমে মৃত পাইথন]