শংকরকুমার রায়, রায়গঞ্জ: প্রকৃত দোষীরা এখনও শাস্তি পায়নি। সিবিআই তদন্তও হয়নি। মহকুমা শাসকও উদাসীন। এমন নানান অভিযোগে ফের বিতর্কিত দাড়িভিট স্কুলে বিক্ষোভ দেখালেন নিহত দুই ছাত্রের অভিভাবকরা। স্কুলের গেটে ফের তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। নিহত দুই ছাত্র তাপস বর্মণের মা ও রাজেশ সরকারের বাবার অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের ভাবনাচিন্তা করার কথা বলেছিলেন মহকুমা শাসক মনীশ মিশ্র। দোষীদেরও এখনও শাস্তি হয়নি। অন্যদিকে, গন্ডগোলে অভিযুক্তদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তাঁদের। এসডিও-র প্রতিশ্রুতিতে সুর নরম করে গত মাসের ১০ তারিখ স্কুলের গেটের তালার চাবি তুলে দেন নিহতদের অভিভাবকরা। কিন্তু প্রতিশ্রুতিই সার, কাজের কাজ কিছু হয়নি অভিযোগে শুক্রবার ফের স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। গেটে তালা ঝুলিয়ে স্কুলের বাইরে বেঞ্চ পেতে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, মহকুমা শাসককে আসতে হবে। তিনি নাকি ফোন ধরছেন না। প্রতিশ্রুতি মতো কাজ না হলে স্কুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এদিকে স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়েছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে ঢুকতে পারছেন না। পরীক্ষা, পঠনপাঠন সবই শিকেয় উঠেছে।
[চাইল্ড কেয়ার লিভের জন্য শিক্ষিকার বেতন বন্ধ, পৌরুষতন্ত্রের ঔদ্ধত্য বলল কোর্ট]
দীর্ঘ টালবাহানার পর গত ১০ নভেম্বর খোলে উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিট হাই স্কুল। এসডিও-র হাতে স্কুলের গেটের চাবি তুলে দেন নিহত রাজেশ সরকারের বাবা নীলকমল সরকার। যদিও বিডিও মণীশ মিশ্রের সামনে ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভের পরই এই চাবি হস্তান্তর পর্বটি মেটে। স্কুল খোলার কিছুদিন পর নির্বিঘ্নে শুরু হয় মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা। এবার দাড়িভিট স্কুল থেকে ২২১ জন পড়ুয়া মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬ জন। গত ২০ সেপ্টেম্বর স্কুলের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বিপ্লব সরকার। সেও পরীক্ষা দেয়। তবে মৌখিক, প্র্যাকটিক্যাল-সহ কিছু পরীক্ষা বাকি ছিল। এদিন নতুন করে স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় সেগুলি স্থগিত হয়ে যায়। সমস্যায় পড়েন পরীক্ষার্থীরা। পঠনপাঠনও ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মহকুমা শাসক না আসলে বিক্ষোভ চলতে থাকবে। প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণ করতে হবে। নাহলে ফের আন্দোলন শুরু করবেন নিহত ছাত্রদের অভিভাবকরা।
[রাজ্য সফর বাতিল, কোচবিহারে বিজেপির সভায় আসছেন না অমিত শাহ]