সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: জনসভায় এসে তিনবার তাঁর পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ এরপর থেকেই নাকি পুরুলিয়ার ভোটের ময়দান ‘হেভিওয়েট’-এর তকমা পেয়ে গিয়েছেন আরএসএসের হাফ প্যান্ট পড়া ওই ছেলেটা৷ তাই শুক্রবার শেষ প্রচারে যেখানেই পা রাখছেন, সেখানেই ভিড় উপচে পড়ছে পুরুলিয়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে ঘিরে।
[ আরও পড়ুন: ফের অচলাবস্থা শিক্ষাঙ্গনে, পড়ুয়া-অশিক্ষক কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ]
গত বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার রায়বাঘিনী ময়দানের জনসভায় জ্যোতির্ময়কে পাশে বসিয়ে নানান পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটের আগে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কি ‘লাস্ট মিনিট সাজেশন’ দিলেন, তা জানতেই এখন আগ্রহ বাড়ছে পুরুলিয়ার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। শুক্রবার শেষ দিনের প্রচারে তাই বারবার তাঁকে পড়তে হয়েছে সেই প্রশ্নের মুখে৷ উত্তরে জ্যোতির্ময় জানান, “দিল্লি আপকে সাথ মে হ্যায়। হামে খবর হে আপ জিতোগে। পুরুলিয়া কো আগে বড়ানা হে। এই কথাই বলেন প্রধানমন্ত্রী।” পুরুলিয়া আসনে এবার বিজেপির সেরা বাজি বছর চৌত্রিশের তরুনতুর্কি জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো৷ যুবসমাজ ও নতুন ভোটারদের কাছে টানতে আরএসএস-এর এই সংগঠকের উপরেই ভরসা রেখেছেন মোদি, শাহরা।
[ আরও পড়ুন: ভাটপাড়ায় কামব্যাকের লড়াইয়ে গোপাল-হীন মদন! ]
জানা গিয়েছে, ঝালদা এক নম্বর ব্লকের পুস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতরাডি গ্রামে বড় হয়ে উঠেছেন জ্যোতির্ময়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পুস্তি হাইস্কুলেই লেখাপড়া করেন তিনি। এরপর জারগো হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক। এবং রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ গোসনার কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেন তিনি। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য হন তিনি। খাঁকি হাফ প্যান্ট আর সাদা জামা পরে সংগঠনের কাজে ডুবে যান। পুরুলিয়ায় আরএসএসের জেলা সংযোজক, জেলা প্রমুখ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশাতেও কাজ করেন তিনি৷ সংগঠনের কাজের সঙ্গে সঙ্গে ওড়িশার সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাউরকেল্লা কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি পান পুরুলিয়ার বিজেপি প্রার্থী। এরপরেই তাঁকে পুরুলিয়া বিজেপির জেলা যুব মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিজেপি প্রার্থী জানান, “সংগঠনের কাজে সেদিনের স্বার্থ ত্যাগই বড় পাওনা। সেই কারণেই তো দেশের প্রধানমন্ত্রী পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেলেন। এখানেই নিন্দুকদের সব জবাব দেওয়া হয়ে গেল আমার।”
ছবি: সুনীতা সিং