নন্দন দাস, সিউড়ি : বাঁকুড়ার কায়দায় বীরভূমের বিজেপি প্রার্থীর প্রচার আটকানোর কৌশল নিয়েছে পুলিশ, এমন অভিযোগ করছে বিজেপি। এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এই অভিযোগে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় সোমবার সিউড়ি আদালতে হাজিরা দেন বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল। পরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সারাদিন সিউড়ি আদালতে আটকে রেখে প্রচারে বিঘ্ন ঘটাবার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে বাঁকুড়ার প্রার্থী সৌমিত্র খাঁর পথ অনুসরণ না করে পুলিশের অভিযোগকে চ্যালেঞ্জও জানালেন। ফলে ফের আগামী ১০ এপ্রিল তাঁকে আদালতে হাজিরার দিন দিল এক্সিকিউটিভ আদালত।
গত দু-তিন বছর রাজনগরে যাননি দুধকুমার মণ্ডল। তাঁর কথায়, রাজনগর-সহ জেলাতে কোথাও অশান্তি হয়নি। তবুও রাজনগর থানার এস আই সন্তোষ কুমার জানা শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা করে তাঁর বিরুদ্ধে ১০৭ ও ১১৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। দুধকুমারবাবুর আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, “পাঁচ বছর আগের একটি অভিযোগকে খুঁচিয়ে পুলিশ তাঁর মক্কেলকে হেনস্তা করছে।” তিনি দাবি করেন, যেহেতু তাঁর মক্কেল একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, তাই তাঁকে সারাদিন আদালতের কাজে আটকে রেখে প্রচারের সময় কেড়ে নেওয়া হল।
[আরও পড়ুন- ভোটের আবহেও চাঙ্গা পোস্তার স্মৃতি, বিচার চান নিহতদের পরিজনরা]
উল্লেখ্য জেলা সভাপতি থাকাকালীন ২০১৪ সালে একটি জনসভায় উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে সিউড়ি আদালতে এই সংক্রান্ত মামলাও বিচারাধীন। এপ্রসঙ্গে দুধকুমার মণ্ডল বলেন, “তারপর থেকে আমি কোনও কাজেই আর রাজনগর যায়নি। সেই মামলা বিচারাধীন। অথচ সেই মামলাকে খুঁচিয়ে তুলে ফের আমাকে শো-কজের উদ্দেশ্য প্রচারে বাধা দেওয়া। তবে, আদালতের কাজে সহযোগিতা করতে আমি সবসময় হাজির হব।” সোমবার সকাল থেকে হাজিরা দিয়ে বিকেল পর্যন্ত থাকার ফাঁকে দুধকুমারবাবু সিউড়ি টিন বাজারে ও আদালত চত্বরে দলীয় পতাকা ছাড়া জনসংযোগ সারেন বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।
এপ্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল বলেন, “আসলে বিজেপির প্রচারে ভয় পেয়েছে তৃণমূল। তাই যে প্রার্থী এলাকায় যায়নি। তাঁকে নিয়ে আশঙ্কা করছে পুলিশ। আর যে লোকটা দিন দিন, পুলিশের ঘেরাটোপে থেকে মানুষকে হুমকি, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আসলে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও কীভাবে শাসকদলের পদলেহন করবে তা পুলিশ বুঝতে পারছে না।”
তবে দুধকুমারবাবু এদিন প্রচার করেছেন বলে যে অভিযোগ তৃণমূল করেছে তা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বরং এপ্রসঙ্গে বলেন, “জনপ্রিয় প্রার্থী ভোটের মরশুমে রাস্তা দিয়ে গেলেই তাঁর কাছে লোক জড়ো হচ্ছে। এর মধ্যে দোষ কোথায়।”