সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রেল বাজেটে বাংলার ভাগ্যে সেই বঞ্চনাই সার। সমীক্ষার বরাদ্দ শূন্য করে অধিকাংশ মেট্রো প্রকল্পগুলিকে কার্যত হিমঘরে পাঠাল কেন্দ্র। রাজ্যের তিনটি মেট্রো প্রকল্পের সমীক্ষাতেই বাজেটে কোনও অর্থ বরাদ্দ হয়নি। কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
[ পাশাপাশি জিএনএলএফ-মোর্চা, পাহাড়ের রাজনীতিতে নজিরবিহীন বার্তা মমতার ]
পূর্ব রেলের অলাভজনক আটটি রুট বন্ধের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রীয় মনোভাবের স্পষ্ট প্রকাশ দেখা গেল এবারের রেল বাজেটে। এমনিতেই বাজেট ঘোষণার দিনই রেল বাজেট নিয়ে কার্যত হতাশ হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। যাত্রীসুরক্ষায় তেমন কিছুই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার বিস্তারিত তথ্য হাতে পাওয়ার পর জানা যায়, বাংলার জন্য তীব্র বঞ্চনাই রাখা আছে বাজেটে। নতুন কোনও প্রকল্পের ঘোষণা তো হয়নি, উলটে চলতি প্রকল্পগুলিকেও কার্যত হিমঘরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। রাজ্যে এই মুহূর্তে তিনটি মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ চলছে। জোকা থেকে ডায়মন্ডহার, নিউ গড়িয়া থেকে বারুইপুর এবং বারাসত থেকে ব্যারাকপুর- এই তিন প্রকল্পের সমীক্ষাতেই কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে তিন প্রকল্পের কাজই কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর বরাদ্দ হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা, গতবছর যা ছিল ১৯৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ কমল। অন্যান্য প্রকল্পে যা বরাদ্দ করা হয়েছে তাও যৎসামান্য। যেমন বরাহনগর-দক্ষিণেশ্বরে প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা। ফলত বাংলার ভাঁড়ারে প্রাপ্তিযোগ যে শূন্য তা স্পষ্ট। তবে জোকা-বিবাদি বাগ রুটে বেশ খানিকটা বরাদ্দ বেড়েছে। শুধু মেট্রো নয়, পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্বে রেলের জন্য কোনও ঘোষণা নেই।
[ মুর্শিদাবাদে ফাঁস ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ছক, উদ্ধার প্রচুর বিস্ফোরক ]
এদিকে পাহাড় সফর থেকেই এ ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, “বাংলাকে বঞ্চনার আরও একটি উদাহরণ সামনে এল। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানছি না।” বস্তুত, ইউপিএ আমলে রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই মমতা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলকাতা ও শহরতলিকে মেট্রো রুটে সংযুক্ত করা হবে। সেইমতো কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকার খুব স্পষ্টভাবেই মমতার প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ ঘুরিয়ে বন্ধ করার উদ্যোগ নিল বলেই অভিযোগ জোরদার হচ্ছে।