রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: ‘‘বাজপেয়ীর বিজেপিতে যে গণতন্ত্র ছিল, মোদির আমলে তা নেই। এখন বিজেপি মানে সিপিএম, কংগ্রেস ও তৃণমূলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক দল। যেখানে শুধু রয়েছে একনায়ক তন্ত্র।’’ দলের বিরুদ্ধে এমন ঘোরতর অভিযোগ তুলেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপি ছাড়লেন কয়েক হাজার কর্মী৷ এরা সকলেই আদি বিজেপির সমর্থক বলে জানা গিয়েছে৷ বৃহস্পতিবার এরা সকলেই যোগ দিলেন শিব সেনায়। এমনকী, কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে শিব সেনার তরফে প্রার্থীও করা হয়েছে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি কেনারাম মিশ্রকে। এবং তমলুক কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে শতদল মেট্টাকে।
[আরও পড়ুন: শ্যামনগর স্টেশনে সিগন্যালিং-এ ত্রুটি, শিয়ালদহ মেন লাইনে ব্যাহত ট্রেন চলাচল ]
পুরানো বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, ‘‘যাদের টাকা রয়েছে, তাঁরাই এখন বিজেপিতে পদ পায়। টাকা ছাড়া কোন কথা হয় না। বিজেপি এখন বড়লোকদের দল। শুধু তাই নয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি নিজেই বলেছেন, যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষিত লোকদের অভাব রয়েছে। এদিকে পুরনো, শিক্ষিত মানুষদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই পুরানোদের সঙ্গে নতুনদের একটা অংশ বিজেপি ছেড়ে শিবসেনা দলে যোগ দিয়েছে।” কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের শিব সেনা দলের প্রার্থী তথা বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি কেনারাম মিশ্র জানান, “বিজেপি দলের সঙ্গে যখন কেউ ছিল না তখন আমরা কয়েকজন দলটিকে বাঁচিয়ে রেখেছিলাম এই এলাকায়। এখন দলের ভাল সময় চলছে তাই সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল থেকে লোক নিয়ে এসে বিভিন্ন পদে বসানো হচ্ছে। আর পুরানো দিনের কর্মীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাংলায় তৃণমূলকে পরাজিত করার মতো শক্তি কখনও হয়নি বিজেপির। একমাত্র হিন্দু সংগঠন হিসেবে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে পারে শিব সেনাই। আমরা যেহেতু হিন্দু সংগঠনের কাজ করে এসেছি দীর্ঘদিন। তাই শিব সেনার মত সংগঠন ছাড়া আমাদের অন্যকোনও দল করার ইচ্ছে নেই। তাই কয়েক হাজার পুরানো ও নতুন বিজেপি কর্মীরা শিব সেনায় যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছে। আমরাও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছি।”
[ আরও পড়ুন: প্রচারে বাদ নানুরের সেনাপতি গদাধর, বোলপুরে বড় লিড তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ]
শিব সেনার তরফে প্রার্থী হয়ে বিজেপির কপালে ভাঁজ ধরিয়েছে দলের পুরনো কর্মীরাই। বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে, দলের প্রার্থী পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তিনজন। যদিও পরে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে দেবাশিস সামন্ত বাদে বাকি দুইজন বিজেপি নেতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এবার পদ্মের কাঁটা হয়ে উঠেছে শিব সেনা। বিজেপির মতো শিব সেনাও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হওয়ায়, সেই প্রভাব ভোট বাক্সে থাবা বসাতে বলেই আশঙ্কা করছে বিজেপি কর্মীদের একাংশ।