Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

লোকালয়ে বাঘ ঢুকলেই এবার সতর্ক করবে সাইরেন

বাঘ-মানুষের দ্বৈরথ ঠেকাতে এই পথেই হাঁটছে সুন্দরবন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯, ১০:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯, ১০:৫২

options
link
লোকালয়ে বাঘ ঢুকলেই এবার সতর্ক করবে সাইরেন zoom

গৌতম ব্রহ্ম: যুদ্ধ বাধলে বাজে। সাইক্লোন ধেয়ে আসছে খবর পেলেও তার ভোঁ ভোঁ শব্দে চারদিক মাত হয়। এ বার লোকালয়ে বাঘ ঢুকলেও সুন্দরবনের আনাচ কানাচে হুঁশিয়ারিবার্তা ছড়িয়ে দেবে সাইরেন। সতর্কবাণী শোনা যাবে মেগাফোনে। গ্রামবাসীদের হাতে জ্বলবে ড্রাগন টর্চ। তেমন বেগতিক দেখলে ব্যবহার হবে নাইলনের মোটা জালও।

বাঘ-মানুষের দ্বৈরথ ঠেকাতে এই পথেই হাঁটছে সুন্দরবন। ফি–বছর সুন্দরবনে বাঘ আর কুমিরের পেটে বহু প্রাণ যায়। বহু মানুষ জখম হন। কিন্তু তা নিয়ে কোনও তথ্য ছিল না। পাঁচ মাস হল বাঘ-কুমিরের শিকারের সংখ্যা জানতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কুলতলি, গোসাবা ও পাথরপ্রতিমা এলাকায় ৮৫০ জনের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। এখনও কুমিরমারী ছোট মোল্লাখালি, সাতজেলিয়ার মতো এলাকা বাকি। সংখ্যাটা দু’ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই পরিসংখ্যানকে সামনে রেখেই সুন্দরবনে নতুন প্রকল্প শুরু করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস’ (আইইউসিএন)। ভারত এবং বাংলাদেশ, দুই দেশেই সমান্তরালভাবে চলবে প্রকল্পটি। আইইউসিএনের সঙ্গী হয়েছে দিল্লির ‘ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া’(ডব্লুটিআই), ‘ওয়াইল্ড টিম অফ বাংলাদেশ’ এবং ‘লোকমাতা রানি রাসমণি মিশন’। এমনটাই জানিয়েছেন মিশনের সম্পাদক অমিতাভ রায়।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[‘নরখাদক’ তামিল যুবক! রাতদুপুরে রহস্য পরিষ্কার হতেই তীব্র আতঙ্ক]

আপাতত কুলতলির মইপীঠ ও দেউলবাড়ি গ্রামকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ধাঁচে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘প্রাইমারি রেসপন্স টিম’ বা পিআরটি। প্রতিটি টিমে থাকবেন গ্রামের বাছাই করা ৩৫ সদস্য। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শেষ। দুটি গ্রামের জন্য দু’টি টিম কাজ করবে। যেখানে বন্যপ্রাণের সঙ্গে মানুষের সংঘাতের মাত্রা বেশি, সেখানে জঙ্গলের উপর নির্ভরশীলতা বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত কুলতলিতে ২২৭ জন বাঘের শিকার হয়েছেন। গোসাবায় ৫০০ জন, পাথরপ্রতিমায় ১৩৬ জন। ডব্লুটিআই-এর আঞ্চলিক অফিসার-ইন-চার্জ কৃষ্ণেন্দু বসাক জানালেন, আপাতত কুলতলির মইপীঠ ও দেউলবাড়ি গ্রাম দত্তক নেওয়া হয়েছে। আড়াইশো করে দু’টো গ্রামে মোট পাঁচশো উন্নত চুলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রান্নার কাঠ জোগাড়ে গ্রামবাসীদের জঙ্গলের উপর নির্ভরশীলতা কমাতেই এই পদক্ষেপ। গ্রামবাসীদের বিশেষত গ্রামের মহিলাদের দেওয়া হবে পেশাগত প্রশিক্ষণ। পোলট্রি ফার্মিং, গোটারি, হস্তশিল্পের মাধ্যমে খুলে দেওয়া হবে বিকল্প আয়ের রাস্তা। এতে মানুষ, জঙ্গল, বাঘ তিনটেই বাঁচবে। কারণ, সুন্দরবন শুধু বাঘেদের অভয়ারণ্য নয়, অরণ্য লাগোয়া বহু গ্রামের বাসিন্দা জঙ্গলের কাঠ, মধু, খাঁড়ির মাছের উপর নির্ভরশীল।

জঙ্গলে গ্রামবাসীদের যাওয়া না হয় ঠেকানো গেল। কিন্তু, বাঘ যদি লোকালয়ে চলে আসে! অমিতাভবাবু জানালেন, দু’টি গ্রামেই তৈরি করা হচ্ছে ‘প্রাইমারি রেসপন্স টিম’। লোকালয়ে বাঘ ঢুকলে এই টিম কাজ শুরু করবে। বাঘকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে বন দফতরকে সহযোগিতা করবে। সেই সঙ্গে গ্রামবাসীদের সতর্কও করবে। বাংলাদেশে এই টিম থাকলেও এখানে নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে্য জানুয়ারিতেই ৭০জনকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে ফের বসা হবে। সাইরেন, মেগাফোন, ড্রাগন টর্চ ও জাল থাকবে পিআর টিমের কাছে। প্রয়োজনে মহিলারা শঙ্খ বাজাবেন।

[শরীরে আকর্ষণ, ছুঁতেই বিষ! সুন্দরী ফুলের ট্র্যাজিক কাহিনী]

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.