Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
West Bengal

করোনায় বন্ধ স্কুল, বাতিল পরীক্ষাও, কীভাবে পড়ুয়াদের মূল্যায়ণ? উপায় জানালেন শিক্ষকরাই

করোনার প্রকোপে গত একবছর ধরে স্কুলে বন্ধ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৪, ২০২১, ১৭:২৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৪, ২০২১, ১৭:২৭

options
link
করোনায় বন্ধ স্কুল, বাতিল পরীক্ষাও, কীভাবে পড়ুয়াদের মূল্যায়ণ? উপায় জানালেন শিক্ষকরাই zoom
ফাইল ছবি

কলহার মুখোপাধ্যায়: এক বছর পার হতে চলল। একবার আসার পর দ্বিতীয়বার ‘মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক’ এসে পৌঁছল না রাজ্যের সরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে। করোনার (Covid-19) কারণে বছরখানেকের ওপর রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলির শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে নিয়মিত পঠনপাঠন। একেবারেই হচ্ছে না পরীক্ষা নেওয়া। ফলে পড়ুয়াদের মূল্যায়নের কোনরকম সুযোগই নেই স্কুলগুলির হাতে।

বিক্ষিপ্তভাবে অনলাইনের মারফত বা ফোনে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা বা পরীক্ষার ব্যবস্থা করছেন কিছু স্কুলের শিক্ষক। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই নয়। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে সার্বিকভাবে রাজ্যের সমস্ত স্কুলের শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক-এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম বলে মনে করছেন শিক্ষক এবং অভিভাবকমহল। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ফের এরকম কোনও টাস্ক পাঠালে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেত। এবং বাড়িতে তারা কতটা পড়াশোনা করছে তা সামান্য হলেও মূল্যায়ন করা যেত বলে শিক্ষকদের একাংশের মত।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: হামলার মুখে সুভাষ সরকার, গাড়িতে ইটবৃষ্টি, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ]

প্রসঙ্গত, গত বছর মে মাস নাগাদ কীরকম পড়াশোনা হয়েছে তা জানতে প্রতিটি বিষয়ের ওপর প্রশ্নপত্র তৈরি করে তা পাঠানো হয়েছিল স্কুলগুলির কাছে। সেগুলি মিড-ডে-মিল নিতে আসা অভিভাবকদের হাত দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রশ্নের উত্তর লিখে তা পুনরায় স্কুলের কাছে জমা দিয়েছিলেন অভিভাবকরা। তাতে যদিও কোনও নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। তবুও বাড়িতে কতটা পড়াশোনা করেছে পড়ুয়ারা তার একটা আন্দাজ পেয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষকরা। তবে ওই প্রথমবার এবং এখনও পর্যন্ত শেষবারের মত মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পেয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও এরকম আর কোন মডেল প্রশ্ন এখনও পর্যন্ত স্কুলগুলির কাছে এসে পৌঁছয়নি।

এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেই বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পাঠানোর জন্য আবেদন জানিয়েছে শিক্ষা দপ্তরের কাছে। তাদের বক্তব্য, বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র তৈরি হোক। এবং এই স্কুল বন্ধের সময় কী করা উচিত, আর কী নয়, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসুক শিক্ষা দপ্তর। তারপর শিক্ষক সংগঠন, নামকরা স্কুলের প্রতিনিধি ও অভিভাবকদেরও মতামত নেওয়া হোক। স্কুল বন্ধের সময় পঠনপাঠনকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা। শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বাকি শিক্ষাবর্ষের কয়েক মাসকে সম্পূর্ণ অ্যাকাডেমিক সময়সীমা ধরে নিয়ে বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও অ্যাক্টিভিটি টাস্ক প্রকাশ করে বিকল্প মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু করুক শিক্ষা দপ্তর। সেই অ্যাক্টিভিটি টাস্কে সংক্ষিপ্ত ও অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে। পর্ষদ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার শিক্ষকদের নির্বাচিত করে টাস্ক তৈরীর দায়িত্ব দিক। সেই টাস্ক পর্ষদ পুস্তিকা রুপে প্রকাশ করে জুন মাসের মিড ডে মিলের সময় বিতরণ করুক। টাস্কের টপিক পর্ষদ নির্দিষ্ট রুটিন অনুসারে ছাত্র ছাত্রীদের গাইড করবে টিচাররা। পাশাপাশি ফোন কলের মাধ্যমে একটি মূল্যায়ন রেকর্ড কার্ড তৈরি করবেন বিষয়ভিত্তিক টিচাররা।

[আরও পড়ুন: হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করোনা রোগীর দেহ, চাঞ্চল্য জলপাইগুড়িতে]

শুক্রবার বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সচিবের কাছে প্রাথমিকে ‘মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক’ পাঠানোর দাবি করা হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হাণ্ডা অভিযোগ করে বলেন, সরকার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাসের ব্যবস্থা করলেও শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কিছু করেনি। তিনি ‘মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক’ প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার দাবি করেন। নচেৎ স্কুলছুট বাড়বে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোশিয়েশনের সম্পাদক চন্দন গরাই এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার কথা ভেবে শিক্ষা দপ্তর অবিলম্বে বাকি শিক্ষাবর্ষ অনুসারে সমস্ত ক্লাসের পরিমার্জিত সিলেবাস ও অ্যাক্টিভিটি টাস্ক প্রকাশ করে হোম টাস্ক ও টেলিযোগাযোগ মাধ্যমে পঠনপাঠন চালু করুক। এছাড়াও, বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস ও একটিভিটি টাস্কের পুস্তিকা জুন মাসের মিড ডে মিলের সাথে বিতরণ করা হোক।”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.