দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: পঞ্চায়েত ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। এমনকী, ৮টি আসনে বিনা লড়াইয়ে জিতেছিলেন শাসকদলের প্রার্থীরাই। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে বোর্ড গঠন করা যাচ্ছিল না দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের পোলেরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। শেষপর্যন্ত বুধবার আদালতের নির্দেশে, কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় পঞ্চায়েতে বোর্ড গড়ল তৃণমূলই। প্রধান হলেন সবিতা সরদার, আর উপপ্রধান হাকীমূল ইসলাম। তিনি আবার ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের ছেলে।
[আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ ইস্যুতে এবার বিক্ষোভ ওয়াইসির দলের, শিয়ালদহ-ডায়মন্ড হারবার শাখায় রেল অবরোধ]
গত বছর পঞ্চায়েত ভোটে ১৬ আসনের পোলেরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে ১১টি আসনেই জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থীরাই। আর পাঁচটি আসন গিয়েছিল জমিরক্ষা কমিটির সমর্থিত নির্দল প্রার্থীদের দখলে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করতে ব্যর্থ হয় রাজ্যের শাসকদল। উলটে তৃণমূলের যে ৮ জন প্রার্থী বিনা লড়াইয়ে জিতেছিলেন, তাঁদের নির্বাচনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয় জমিরক্ষা কমিটি। পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে জারি হয় স্থগিতাদেশ। সূত্রের খবর, তৃপ্তি বিশ্বাসকে নামে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যকে প্রধান করলে বোর্ড গঠনে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন জমিরক্ষা কমিটি। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা। এদিকে নির্বাচনের পর বছর ঘুরে গেলেও বোর্ড গঠন না হওয়ার প্রশাসনিক কাজ থমেছিল ভাঙড়ের পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায়। শেষপর্যন্ত অচলাবস্থা কাটাতে অবিলম্বে বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ মেনে বুধবার ব্লক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল ভাঙড়ের পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতে।
বুধবার সকাল থেকে পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে টানটান উত্তেজনা ছিল ভাঙড়ের পোলেরহাটে। শান্তি বজায় রাখতে এলাকায় রীতিমতো মাইকিং করে প্রশাসন। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ কর্মী। এমনকী, বন্ধ ছিল বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজও। এদিকে আবার আরাবুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে পঞ্চায়েতে শামিল না করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান জমিরক্ষা কমিটির সদস্যরা।
[আরও পড়ুন: পুত্রশোক এখনও দগদগে, পিতৃস্নেহে বউমার বিয়ে দিলেন শ্বশুর]