নন্দন দত্ত, বীরভূম: গ্রাম পঞ্চায়েতে আসনসংখ্যার থেকেও শাসকদলের প্রার্থী বেশি। কাদের দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে? তা চূড়া্ন্ত করতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে দলের পর্যবেক্ষক-সহ জেলা নেতারা বৈঠকও করেছেন বলে খবর। কিন্তু, তাতেও আর সমস্যা মিটল কই! বরং শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বীরভূমের ময়ুরেশ্বর। ২ নম্বর ব্লকের দাসপলশা পঞ্চায়েতের ছোটতুড়িগ্রাম ও রাধানগর গ্রামে ৮ জন নির্দল প্রার্থীর বাড়িতে চলল তুমুল ভাঙচুর। পালটা মারে আহত ৪ জন তৃণমূল সমর্থক। আহতেরা ভরতি সিউড়ি হাসপাতালে। ঘটনায় নির্দল প্রার্থী-সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ময়ুরেশ্বর থানার পুলিশ। যদিও তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, দলের কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। ময়ুরেশ্বরে গন্ডগোল পাকিয়েছে সিপিএম সমর্থকরা।
[আক্রান্ত স্বামী, ছেলেকে নিয়ে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নিলেন মহিলা প্রার্থী]
ময়ুরেশ্বর ২ নম্বর ব্লকের দাসপলশা গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৩টি আসনে নির্দল প্রার্থী ৬ জন। শোনা যাচ্ছে, এই নির্দল প্রার্থীরাও আসলে তৃণমূলের একটি গোষ্ঠীর সমর্থকরা। টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাঁরা। দিন কয়েক আগে ব্লকের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্ধার বৈঠক করে গিয়েছেন তৃণমূলের ময়ুরেশ্বরের পর্যবেক্ষক ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। বৈঠকে ছিলেন জেলার শীর্ষ নেতারাও। সিদ্ধান্ত হয়েছে, পঞ্চায়েত ভোটে পুরনো কর্মীদেরই দলের প্রতীক দেওয়া হবে। কিন্তু, সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ দলের অপর গোষ্ঠীর সদস্যরা। সমস্যা মেটাতে শনিবার বৈঠকে বসেছিল শাসকদলের দুই গোষ্ঠী। কিন্তু, সমাধান সূত্র তো মেলেইনি, উলটে শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। নির্দল প্রার্থীদের মারে জখম হন ৪ জন তৃণমূল কর্মী। তাঁদের ভরতি করা হয় সিউড়ি হাসপাতালে। এদিকে এই ঘটনার পর আবার নির্দল প্রার্থীদের বাড়িতে ভাঙচুর চালান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। বাড়ির যাবতীয় জিনিসপত্র পুকুরে ফেলা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনওমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ময়ুরেশ্বর থানার পুলিশ। শনিবার রাতে নির্দল প্রার্থী-সহ ৪ তৃণমূলকর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়। যদিও ময়ুরেশ্বরে দলের গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ মানতে চাননি তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থীপদ নিয়ে দলে কোনও সমস্যা নেই। ময়ুরেশ্বরে গণ্ডগোল পাকিয়েছে সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা।
ছবি: সুশান্ত পাল
[তৃণমূলের শুভেচ্ছা নিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছলেন বজরংবলী]