বাবুল হক, মালদহ: যখন কংগ্রেসে ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দল বদলেও রেহাই পেলেন না। সরকারি প্রকল্পে কোটি টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে মালদহে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
[ আরও পড়ুন: ফের কুকথা, মুখ্যমন্ত্রীকে রাক্ষসী বলে বিতর্কে বিজেপি নেতা কালোসোনা মণ্ডল]
২০১৭ সালে মালদহের রতুয়ার মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তখন পঞ্চায়েতটি ছিল কংগ্রেসের দখলে, প্রধান ছিলেন সুকেশ যাদব। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মল বাংলার প্রকল্পে শৌচাগার তৈরি না করেই ভুয়ো বিল পেশ করে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তখনকার প্রধান। গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান সুকেশ যাদবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে প্রশাসন। এমনকী, তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় সুকেশ যাদবের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত বিরোধী দলনেতা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তৃণমূলে যোগ দেন কংগ্রেস পরিচালিত মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং গ্রেপ্তারি এড়াতে গা-ঢাকা দেন। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে অভিযুক্ত প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান ও তৃণমূল নেতা সুকেশ যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মালদহের পুলিশ সুপার অলক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, ২০১৭ সালেই মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধান সুকেশ যাদবের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তখনকার বিডিও। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়। অভিযুক্ত সুকেশ যাদবের অবশ্য দাবি, অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে দলের কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকে করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা দেন তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, ‘চুরি করে দলবদলের খেলা খেললে কেউ ছাড় পাবে না।’ দল নির্বিশেষে দুর্নীতিগ্রস্থদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের মালদহ জেলা সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূরও।