টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার শালতোড়ায় খুন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভরতি করা হয়েছিল দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে। বুধবার সকালে মারা যান ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।
[আরও পড়ুন: তৃণমূলের পার্টি অফিস পুনর্দখল, ঝাঁট দিয়ে ঘর পরিষ্কার করলেন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা]
মৃতের নাম কাজল মণ্ডল। বাড়ি, বাঁকুড়ার শালতোড়া ব্লকের সালমা গ্রামে। একসময়ে তৃণমূল পরিচালিত সালমা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন কাজল। কিন্তু, গত পঞ্চায়েত ভোটে আসনটি মহিলা সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ায় তিনি আর টিকিট পাননি। ওই আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটেই জিতে পঞ্চায়েত সদস্য হন কাজল মণ্ডলের স্ত্রী চন্দনা। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে একটি ফোন পেয়ে বাইক নিয়ে তড়িঘড়ি বাড়িতে থেকে বেরিয়ে যান কাজল মণ্ডল। কিছুক্ষণ পর রাস্তায় তাঁর বাইকটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোঙানির শব্দও শোনা যায়। রাস্তার পাশে একটি ঝোপ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় রানিগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে কাজল মণ্ডলকে স্থানান্তরিত করা হয় দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে। বুধবার সকালে মারা যান বাঁকুড়ার ওই তৃণমূল নেতা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, কাজল মণ্ডলের মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওই তৃণমূল নেতাকে যে খুন করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই পুলিশের। কিন্তু, কারা খুন করল? কেনই বা খুন করা হল? তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঁকুড়া শালতোড়ায়। লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলের সবকটি আসনেই জিতেছে বিজেপি। বাঁকুড়া জেলার দুটি আসনও গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের দখলে। শালতোড়া যে লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে, সেই বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে হেরেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী ও মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।