জ্যোতি চক্রবর্তী, বনগাঁ: অনেক ক্ষেত্রেই কথাটি শোনা যায় – সততাই পরম সম্পদ। সততা সত্যিই যে মানুষের জীবনের কত বড় ঐশ্বর্য এবং সেই সম্পদ যাঁর আছে, তিনিই যে সবচেয়ে খুশি, তার প্রমাণ দিলেন বনগাঁর (Bongaon) অভাবী ২ যুবক। হারিয়ে যাওয়া টাকাভরতি ব্যাগের মালিককে খুঁজে তা ফিরিয়ে দিলেন এক চায়ের দোকানি এবং ট্রাক চালক। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বনগাঁ থানার ত্রিকোণ পার্ক এলাকায়। ব্যাগ হারিয়েও তা কয়েকঘণ্টার মধ্যে এভাবে ফেরৎ পেয়ে যাবেন বলে ভাবতেও পারেননি পেশায় ব্যবসায়ী, ব্যাগের মালিক সন্তু বিশ্বাস।

বনগাঁর ত্রিকোণ পার্ক এলাকায় একটি চায়ের দোকান আছে রামপ্রসাদ সাহার। সুরাবউদ্দিন মণ্ডল পেশায় ছোট ট্রাকের চালক। এঁরা দু’জন মিলেই শনিবার ফের সততার পাঠ দিলেন সকলকে, নিজেদের কাজের মধ্যে দিয়ে। ঘটনাটা কী? জানা গিয়েছে, বনগাঁ থানার সুভাষপল্লির বাসিন্দা সন্তু বিশ্বাস পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। বনগাঁ, বাগদা সহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলিতে ডিস্ট্রিবিউটরের অধীনে তিনি ওষুধপত্র সরবরাহের কাজ করেন৷ শনিবার দুপুরে বাগদা থেকে ওষুধের টাকা সংগ্রহ করে বাইকে করে তাঁর সুভাষপল্লির বাড়িতে ফিরছিলেন সন্তুবাবু। ব্যাগের মধ্যে ছিল নগদ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারা বছরের ওষুধপত্রের বিল।
বনগাঁয় ফিরে তিনি দেখেন, রাস্তায় খোয়া গিয়েছে কালো রঙের ব্যাগটি। এরপর যে রাস্তা দিয়ে তিনি বাইক চালিয়ে এসেছেন, তার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর শুরু করেন। মানিব্যাগটি না পেয়ে থানার দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবেন।
[আরও পড়ুন: পুজোর উপহার, মাত্র ৫ টাকায় ভরপেট খাওয়াতে বারাকপুরে চালু ‘দিদির রান্নাঘর’]
কিন্তু এমনই সময়ে তাঁর ত্রাতা হয়ে আসেন চায়ের দোকানদার রামপ্রসাদ সাহা। রামপ্রসাদের ফোন পেয়ে ত্রিকোণ পার্ক এলাকায় ছুটে আসেন সন্তুবাবু। তারপরই তাঁর হাতে চলে আসে হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগটি। টাকাভরতি ব্যাগটি ফেরত পেয়ে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সন্তু বিশ্বাস। এই ব্যাগ উদ্ধারে রামপ্রসাদের সহযোগী ছিলেন ট্রাক চালক সুরাবউদ্দিন মণ্ডল। রামপ্রসাদ ও সুরাবউদ্দিনরা জানান, বনগাঁ থানার সামনে চাকদা রোডে ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখেন সুরাবউদ্দিন। রামপ্রসাদকে তা জানাতেই ব্যাগটির মালিকের খোঁজখবর শুরু করেন তাঁরা। দু’জন মিলে ব্যাগের মধ্যে থেকে ফোন নম্বর বের করে সন্তুবাবুকে ফোন করে তাঁর ব্যাগের খবর জানান৷ রামপ্রসাদের কথায়, “যে কোনও ব্যক্তির কোনও কিছু হারিয়ে গেলে, সেটি পাওয়া মাত্রই তাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া উচিত। আমরা ব্যাগটি ফেরত দিয়ে সমাজে একটি বার্তা দিতে চাইলাম।”
[আরও পড়ুন: বকেয়ার অজুহাতে বর্ধমান ও কাটোয়া পুরসভার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল জিএসটি দপ্তর]
এদিন দুপুরে চায়ের দোকানে এসে দুই যুবককে জড়িয়ে ধরেন সন্তু বাবু। তিনি বলেন “আমি সাধারণ ওষুধের সেলসম্যান। ব্যাগটি হারিয়ে খুব বিপদে পড়েছিলাম। দুই যুবকের সততায় আমার ব্যাগ ফিরে পেলাম।” ছোট্ট চায়ের দোকানি রামপ্রসাদ সাহা ও গাড়ি চালক সুরাবউদ্দিন হারানো ব্যাগভরতি টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার অভিভূত বনগাঁর মানুষ।