শংকরকুমার রায়, রায়গঞ্জ: মনোনয়নের শেষ হতে না হতেই রাজ্যে একাধিক জায়গায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূল। চোপড়ার ৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২১৭ টি আসনের একটিতেও প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধীরা। ফলত জয়ী শাসকদল। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্ব না মিটলে বিজয় উৎসবে রাজি নয় স্থানীয় নেতৃত্ব। এদিকে চোপড়ার ঘটনায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস।
পঞ্চায়েত ভোটের (Panchayat Vote) মনোনয়ন শুরুর দিন থেকেই বারবার বিরোধীরা দাবি করেছে তৃণমূল তাঁদের বাধা দিচ্ছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভাঙড়, ক্যানিং-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। মনোনয়ন পেশ শেষ হতেই দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের একাধিক জায়গায় প্রার্থী দেয়নি বিরোধীরা। যদিও তাঁদের দাবি, দিতে দেওয়া হয়নি। যার জেরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছে শাসকদল। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকের ৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ২১৭। জানা গিয়েছে, একটি আসনেও প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধীরা। একই অবস্থা পঞ্চায়েত সমিতিতেও। জেলা পরিষদের আসন সংখ্যা ৩। এর মধ্যে জেলা পরিষদের ২ নম্বরে আসনে বিজেপির প্রার্থী শকুন্তলা সিংহ মনোনয়ন পেশ করেছেন। বাকি দুটি আসনে কোনও দলের প্রার্থী মনোনয়ন দেননি। ৩ নম্বর আসনে তৃণমূলের বিধায়ক হামিদুর রহমানের ছেলে শাহ আলম প্রার্থী হয়েছিলেন। ফলত জিতে গিয়েছেন তিনি।
[আরও পড়ুন: মনোনয়ন পর্বের পরও থমথমে ভাঙড়, থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে উদ্ধার ৭ ব্যাগ বোমা, আতঙ্কে স্থানীয়রা]
এ বিষয়ে চোপড়া বিডিও সমীর মণ্ডল বলেন, “দেখছি কী করা যায়।” ইসলামপুরের মহকুমা শাসক আবদুল শাহিদ বলেন, হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আজকেও মনোনয়ন আছে। দেখছি শেষ পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হবে কি না।” বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা চোপড়া বিডিও অফিস ঘিরে রেখেছে। ফলে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। একই অভিযোগ স্থানীয় বিজেপি নেতাদের। সিপিএমের আনারুল আনারুল হক বললেন, “আমরা কোনও মনোনয়ন পত্র দাখিল করিনি, আর কেউ যাবেও না।” তবে এখনই বিজয় উল্লাসে মাততে রাজি নন তৃণমূলের বিদায়ী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আজহারউদ্দিন। তিনি বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে স্কুটনি ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের পরই বিজয় উৎসব করব।” প্রসঙ্গত, গত নির্বাচনে বিরোধীরা প্রার্থী দিয়েছিল। তবে গণনার দিন কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি বিরোধীদের প্রতিনিধিরা। আর এবার নির্বাচনে মনোনয়নের সুযোগই পেলেন না, এমনই দাবি বিরোধী দলগুলির সমর্থকদের।