ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, বারাসত: কালী প্রতিমা দেখতে গোটা রাজ্য যেন ভেঙে পড়েছে বারাসত-মধ্যমগ্রামে। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীদের জন্য অন্যরকম ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। বিপদে পড়লে এবার তাঁদের রক্ষা করবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের মোবাইল অ্যাপ। আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য শ্যামা নামের এই বিশেষ অ্যাপে থাকছে ‘প্যানিক বাটন’। বিপদের সময় ওই মোবাইল অ্যাপের বোতামে চাপলে বিপদ সংকেতের বার্তা পৌঁছে যাবে জেলা পুলিশের কাছে। বিপদে পড়ে পুরুষ বা মহিলার মোবাইল নম্বর ও নির্দিষ্ট অবস্থান জেনে যাবে পুলিশ। যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে বিপদে পড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাবেন জেলা পুলিশের কর্মীরা। রাজ্যে দুর্গাপুজো কিংবা কালীপুজোয় এই প্রথম মোবাইল অ্যাপে ‘প্যানিক বাটন’-এর ব্যবস্থা চালু করা হল।
[যে রূপে বাংলায় পূজিতা কালী তা কার ভাবনায় তৈরি জানেন?]
জেলা পুলিশের সদর দপ্তর থেকে ‘শ্যামা অ্যাপ’ এবং বারাসত-মধ্যমগ্রাম কালীপুজোর গাইড ম্যাপ উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার সি সুধাকর। এসপি জানিয়েছেন, “মানুষ যাতে খুব ভালভাবে পুজো দেখতে পারেন, তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে।” ‘শ্যামা অ্যাপ’-এ বারাসত ও মধ্যমগ্রামের সমস্ত পুজোর ম্যাপ রয়েছে। পাশাপাশি নিকটতম হাসপাতাল, রেস্তরাঁ, হোটেলের দিক নির্দেশিকাও দেওয়া রয়েছে অ্যাপে। এছাড়াও অফলাইনে পুলিশকে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও থাকছে। অ্যাপে ক্রাইম ইনফো অপশনে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ আর ঘটনাস্থল জানালেই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। ছবি তুলে আপলোড করারও সুবিধা থাকছে এই বিশেষ অ্যাপে।
[নিমগাছই এখানে দেবী, কাটোয়ার অহঙ্কার ‘ঝুপোকালী’]
অনেক সময় দেখা গিয়েছে, অভিযোগ জানানোর পরও সুবিধা পাওয়া যায় না। এই কথা মাথায় রেখেই ‘প্যানিক বাটন’ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সংযোজন, গুগল প্লে স্টোরে শ্যামা বারাসত-মধ্যমগ্রাম লিখলেই অ্যাপটি পাওয়া যাবে। অকারণে ‘প্যানিক বাটান’ প্রেস করলে আইনগতভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পুজোর সময় ইভটিজিং রুখতে সব পুজোমণ্ডপ চত্বরে থাকছে সাদা পোশাকে পুলিশ। এছাড়াও ছদ্মবেশে মহিলা পুলিশকর্মীরা দিনভর নজরদারি চালাবেন। অ্যান্টি-ইভটিজিং স্কোয়াডে থাকবেন মহিলা এসআই ও কনস্টেবলরা।