সুদীপ রায়চৌধুরী: রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে (West Bengal Panchayat Polls) মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির অভিযোগ আসছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগণার কিছু অংশ, কোচবিহার, ভাঙড়, ক্যানিংয়ে বিরোধীদের বাধা দেওয়া, মারধরের অভিযোগ উঠেছে । যা নিয়ে সরকার পক্ষকে বারবার কাঠগড়ায় তুলছে বিরোধীরা। বলা হচ্ছে, তৃণমূলের ব্যাপক সন্ত্রাসে বিরোধীরা নাকি মনোনয়নই দিতে পারছে না। কিন্তু কমিশনের দেওয়া তথ্য অন্য কথা বলছে।
৮ জুন রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল। ৯ জুন থেকেই শুরু হয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া। ৯ থেকে ১৪ জুন, এই পাঁচদিনে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তর মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৬৫৫টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। রাজ্যের প্রধান চার রাজনৈতিক শক্তি অর্থাৎ তৃণমূল, বিজেপি (BJP), সিপিএম (CPIM) এবং কংগ্রেস নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির নিরিখে মনোনয়ন দিয়েছে।
[আরও পড়ুন: প্রার্থী হতে চান না অভিষেকের ‘পঞ্চায়েতের মুখ’ কেশপুরের শেখ হোসিনুদ্দিন]
মনোনয়নের নিরিখে প্রথম চারদিনে বিরোধীদের থেকে সামান্য পিছিয়ে ছিল তৃণমূল (TMC)। কিন্তু পঞ্চম দিনে একলাফে সব বিরোধীকে টপকে গিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। প্রথম পাঁচদিনে তৃণমূল সব মিলিয়ে মনোনয়ন দিয়েছে ৪৯ হাজার ৪৯১ আসনে। এর মধ্যে পঞ্চায়েত স্তরে ৪৩ হাজারের বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। মনোনয়নের নিরিখে খুব পিছিয়ে নেই বিজেপিও। প্রায় ৪৬ হাজার আসনে মনোনয়ন দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। রাজনৈতিক মহল বলছে, রাজ্যের সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে সংগঠন দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির এই মনোনয়নের সংখ্যাটা বেশ নজরকাড়া।
[আরও পড়ুন: কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ‘ধর্ষণ ও খুন’ মামলায় SIT গঠনে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের]
মনোনয়নের নিরিখে তৃতীয় স্থানে সিপিএম। তারা মোট ৩৮ হাজার ৩৯ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন পাঁচদিনে। বামেদের (Left Front) শরিক দলগুলিও কয়েক হাজার আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। কংগ্রেস প্রথম পাঁচদিনে মনোনয়ন দিয়েছে ১১ হাজার ৮২৩টি আসনে। সার্বিকভাবে বাম-কংগ্রেস মিলিয়ে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি আসনে। বৃহস্পতিবার শেষদিনেও বহু প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল বলছে, মনোনয়নের এই সংখ্যাই প্রমাণ করে দিচ্ছে সন্ত্রাসের যে অভিযোগ বিরোধীরা করছিল, সেটা মিথ্যা। খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেছেন, “বিরোধীরাই বেশি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তাহলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আসছে কোথা থেকে? তৃণমূল কাউকে বাধা দেয়নি।”