গৌতম ব্রহ্ম: করোনা আতঙ্কের মাঝেই অব্যবস্থার অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু করলেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা। বুধবার বেলার দিকে হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ও সুপারের অফিস ঘেরাও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে কর্মবিরতির পথেও যেতে পারেন তাঁরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন দিন আগে আইসোলেশন কর্মরত এক সাফাইকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই করোনা আক্রান্তদের ওয়ার্ডে কাজে যেতে চাইছিলেন না কোনও সাফাইকর্মী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মাস্ক বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার, তাঁদের সুরক্ষার জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এদিন একই অভিযোগ তুলে আইসোলেশন ওয়ার্ড IB-2 ও IB-6 এর ১০০-১৩৫ জন নার্স বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, আক্রান্ত রোগীদের অনেক কাছাকাছিও যেতে হচ্ছে। কিন্তু তার জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, স্যানিটাইজার, বিশেষ রকমের পোশাক ও অন্যান্য নিরাপদ সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। এমনকী, হাসপাতালের ক্যান্টিনে ঠিকমতো খাবার, জল পাওয়াও যাচ্ছে না। নার্সদের আরও অভিযোগ, রাজারহাট কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে যে গাড়িতে রোগীদের নিয়ে আসা হচ্ছে, সেই গাড়িতেই নার্সদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যার ফলে তাঁদের সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, বেলেঘাটা আইডির আইবি টু-তে আপাতত ৮ জন কোভিড-১৯ (COVID-19) আক্রান্ত চিকিৎসাধীন। আইবি সিক্সে ভরতি রয়েছেন প্রায় ২০ জন। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করে দিলে বিপাকে পড়বেন রোগীরা।
[আরও পড়ুন : লকডাউনে রাস্তায় কেন? গাড়ি আটকাতেই পুলিশকর্মীর উর্দি চেটে দিল তরুণী]
তবে বিক্ষোভ সম্পর্কে হাসপাতালের অধ্যক্ষা অণিমা হালদার বলেন, “এই বিক্ষোভ অপ্রয়োজনীয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আসে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে গিয়েছেন। তাই ওঁরা আমাদের কাছে চাইলেই আমি দিয়ে দিতাম। বিক্ষোভের প্রয়োজন ছিল না।” বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপাতত বৈঠকে বসেছেন বলে খবর।