সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়া মানেই এখন অবারিত দ্বার। যে কোন মানুষ তাদের মতামত ব্যক্ত করার জন্য বেছে নিচ্ছে ফেসবুক বা টুইটার। তৈরি হচ্ছে মিম। কিন্তু মজা করতে গিয়ে সীমারেখার খেয়াল রাখছে না নেটিজেনরা। মজা ক্রমশ পরিণত হচ্ছে ব্যঙ্গে। আর ব্যঙ্গও দিনের পর দিন হয়ে উঠছে মারাত্মক। এবার সেই মারাত্মক মিমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।
২ মে ছিল প্রবাদপ্রতীম চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন। জানা যায়, তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রিয়েল লোকেশনে শুট করতেন। বাস্তবতাকে ক্যামেরাবন্দি করতে চাইতেন তিনি। শোনা যায় ভিড়ে ঠাসা জায়গাতেও নাকি শুটিং করতেন সত্যজিৎ। কিন্তু বর্তমানে শুটিং মানেই হয় কোনও স্টুডিও, নয়তো দেশের বাইরের কোনও লোকেশন বাছেন পরিচালকরা। অবশ্য দেশ বা রাজ্যের মধ্যে যে শুটিং হয় না, তা নয়। কিন্তু অনুরাগীদের হাত থেকে অভিনেতাদের বাঁচাতে ফাঁকা কোনও জায়গাই পরিচালকদের প্রথম পছন্দ।
[ আরও পড়ুন: সেলুলয়েডে আত্মপ্রকাশ করছেন প্রফেসর শঙ্কু, মুক্তি পেল পোস্টার ]
এই নিয়েই তৈরি হয়েছে মিম। সেখানে লেখা হয়েছে কমলেশ্বর বলছেন, ‘দেবকে নিয়ে আফ্রিকা আর আমাজনে শুটিং করে এলাম।’ সৃজিত বলছেন, ‘আমিও কাকাবাবুকে সুইজারল্যান্ড ঘুরিয়ে দিলাম।’ ঠিক তার নিচে সত্যজিৎ রায় বলছেন, ‘আমাকে ফেলুদাকে নিয়ে কখনও দেশের বাইরে শুটিং করতে যেতে হয়নি… শুধু পুরস্কারগুলো আনতে বিদেশ যেতে হত।’
এই মিমটি তুলে সম্প্রতি ফেসবুকে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন কমলেশ্বর। লিখেছেন, “কাউকে বড়ো দেখাতে কাউকে ছোটো করাটা কি আবশ্যক? সত্যজিৎ রায় আমাদের ছবি দেখার চোখ ফুটিয়েছেন। তাই অপমানিত হয়েও আমি গর্বিত- হীনমন্যতায় ভুগছি না।” পরিচালকের এই বক্তব্য সমীচীন। যুগ বদলেছে। তখনকার সময় আর এখনকার সময়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই তুলনা অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু সত্যজিতের মাপের একজন পরিচালকের সঙ্গে যে কোনও তুলনা গর্বের। তাই ‘অপমানিত হয়েও গর্বিত’ কমলেশ্বর।
[ আরও পড়ুন: কানাডার নাগরিক নন অক্ষয়! নতুন তথ্য ঘিরে জল্পনা ]