Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Mimi Chakraborty

‘যাঁদের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে, তাঁদের পারিশ্রমিকের এক-চতুর্থাংশও পাই না’, সোজাসাপটা মিমি

'রক্তবীজ ২' মুক্তির আগে সংবাদ প্রতিদিন-এর সাক্ষাৎকারে এমন কিছু কথা বললেন মিমি যা আগে কখনও বলেননি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫, ১৩:৫১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫, ১৩:৫১

options
link
‘যাঁদের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে, তাঁদের পারিশ্রমিকের এক-চতুর্থাংশও পাই না’, সোজাসাপটা মিমি zoom

লুক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মিমি চক্রবর্তী। ‘রক্তবীজ ২’ মুক্তির আগে এমন কথা বললেন যা আগে কখনও বলেননি। শুনলেন শম্পালী মৌলিক।

ছবি রিলিজ হওয়ার আগেই ‘রক্তবীজ টু’তে আপনার বিকিনি লুক ভাইরাল হল। বাংলা ছবিতে নায়িকা বিকিনি পরেছেন বলে তো মনে পড়ে না। হিন্দিতে শর্মিলা ঠাকুরের কথা বলতে পারি। কীভাবে দেখছেন?
– এটা প্রথমবার বাংলা ছবিতে। আমি দেখার চেয়েও, যাদের জন্য এত হার্ড ওয়ার্ক, যে সিনেমার জন্য এত পরিশ্রম তাদের দেখাটাই আসল। আমার মনে হয়, যদি দর্শকদের নতুন কিছু না দিতে পারি, তাহলে দর্শক কেন দেখবে। চ্যালেঞ্জ এলে ভালোই লাগে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রাজি হয়েছিলেন কী ভেবে? যে মিমি অনস্ক্রিন চুমুতে নারাজ। যার জন্য কাজ হাতছাড়াও হয়েছে।
– দুটো তো আলাদা, আকাশ-পাতাল তফাত। একটা হল, আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়টা হল, আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত, কারও ঘনিষ্ঠ হতে হবে এবং ক্যামেরার সামনে, যেটা দর্শক দেখবে। আমি জানি হয়তো এটা খুব বিরাট ব্যাপার না। আজ থেকে দশ বছর আগে বিকিনি পরতে কমফর্টেবল ছিলাম না, কিন্তু আজকে হয়েছি। আমি যেদিন ওইসব সিন করতে স্বচ্ছন্দ হব সেদিন হয়তো করব। আমার মনে হয় না, হব। আমি অনেক ছবি ছেড়েছি এই জন্য। তবে অনুতাপ নেই। কারণ, জানি ওটা করব না।

শুনেছি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিও ছেড়েছিলেন?
– কারও নাম করতে পারব না। তবে ছবি ছেড়েছি। কারণ, আমার পরিবারও বেশ রক্ষণশীল। থ্যাঙ্ক গড, আমার কোনও বয়ফ্রেন্ড নেই, নয়তো লোকে বলত, বয়ফ্রেন্ডের জন্য এমন সিন করে না। তবে আমি এটাই। আমার মা খুব স্ট্রিক্ট। বিকিনি পরার জন্য মাকেও আমার কনভিন্স করাতে হয়েছে। তারপর বাবাকে বোঝাই যে, আমার কাজ এটা। বলিউডে অনেকে পরেছে, সবাই প্রশংসা পেয়েছে। তারপর হল।

নিজেকে আর বোঝাতে হয়নি?
– না, কারণ আমি জানতাম পারব। একা তো কিছু করছি না। নন্দিতাদি-শিবুদাদের ওই টিমটা দরকার। ওই প্রোজেকশন দরকার। রাইট প্লেস, রাইট মোমেন্ট, ওই গানটা, ওই ডিওপি দরকার। ওই কমফর্ট জোন না হলে করতাম না।

তাই রাজি হয়েছিলেন?
– এটা হয়তো দুটো প্রোডাকশন হাউসের জন্য করতাম। একটা ‘এসভিএফ’ আর ‘উইন্ডোজ’। আমি জানি এরা কী করতে পারে।বেশি রাতে শিবুদা এটা বলেছিল, কিন্তু জানতাম হয়ে যাবে।

Mimi Chakraborty, Abir Chatterjee's raktabeej 2 song has a big twist

আবির চট্টোপাধ্যায়ও তো ফ্যাক্টর?
–  নিশ্চয়ই। একশো শতাংশ ঠিক। সহ-অভিনেতা, ইউনিটের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ না হলে হত না। আমি সেদিন যখন সেট-এ এসেছিলাম, সকলে হাততালি দিতে শুরু করে। খুব এসথেটিক‌্যালি শুটিং করা হয়েছে।

শটে আবিরের থেকে কেমন কমপ্লিমেন্ট পেলেন?
– আবিরদা আমাকে ‘গানের ওপারে’-র আগে থেকে দেখছে। শুধু বলেছে, ‘উফ, মিমসি এইবার একটু খাবার খা, জল খা।’ ওই সব নিয়েই ব্যস্ত ছিল।

‘চোখের নীলে’ গানের দৃশ্যটা তুলতে একটা দিন লেগেছে?
– তাইল্যান্ডের ভার্জিন বিচ-এ শুট হয়েছে। সকাল ৯.৩০টায় লোকেশনে। রাত সাড়ে সাতটা অবধি শুটিং হয়েছিল।

শুটিংয়ের আগে বিশেষ প্রস্তুতি? 
– থ্যাঙ্ক ইউ। নিশ্চয়ই আছে, এখনও হয়তো কেউ করেনি। তবে বলছি, ঘড়ি ধরে কঠোর পরিশ্রমের ফল এটা। ওই সময় খুব এক্সারসাইজ করিনি, কিন্তু সময় মেনে খাবার খেয়েছি। সাধারণত পাঁচদিন ট্রেনিং করি। সেটা কমিয়ে তিনদিন করেছি। ট্রেনারের কথামতো। ওই কদিন ওয়ার্ক আউট করতাম, বাকিটা রিকভারি। আর আট-ন’ঘণ্টা ঘুমোতাম। অনেক সময় মনে হয়েছে, ঘড়ি ধরে সব করতে আর পারছি না (হাসি)। ট্রেনারের কৃতিত্ব এটা। দু’মাস কোনও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা করিনি। রাতে সিনেমা দেখিনি। ঠিক বারোটায় শুয়ে পড়তাম। বাইরে যেতাম না। সারাদিন জিম, এক্সারসাইজ, বাড়ি আসা, ঘুম, রিকভারি ওই করেছি। কারণ, দিনের শেষে কেউ যদি স্ক্রিনে দেখে বলে, মিমি ভালো পারেনি, সেটা আমি শুনতে চাই না। যখন আমি যেটা করছি, সেরাটা দিতে চাই।সাফল্য-ব্যর্থতা পরের কথা। আই ওয়ান্টেড দ্যাট ‘ওয়াও’ ফ্যাক্টর ফ্রম পিপল।

এই পঙ্কজ আর সংযুক্তা পুলিশের চরিত্রে। তারা গম্ভীর কাজ না করে সমুদ্রে কী করছে?
– (হাসি) এটা তো বললে ছবির গল্প বলে দেওয়া হবে। গানটা আপাতত দেখো প্লিজ।

পুজোয় আবির-মিমি জুটি, না দেব-ইধিকা জুটি কে এগিয়ে?
– কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে আমি কোনওদিন বলতে পারব না। এটা দর্শকের কাজ। তারাই আমাদের এই জায়গায় এনেছে।

নুসরতের ‘বর্ডার ক্রস’ দেখেছেন নিশ্চয়ই।
– একদম। আমি তো শুটিংয়ে আছি। ওটা সিচুয়েশনাল সং। গানটা ব্রিলিয়ান্ট। রিলিজ হওয়ার আগেও দেখেছি। শিবুদা সবসময় বড় স্ক্রিনে দেখাতে চায়। আমি পোস্ট-ও করেছি।

মিমি আর নুসরতের দূরত্বের কথা শোনা যায়।
– কোনওদিন ছিল না। আমি কোনওদিন বলিনি। আমার যদি কারও সঙ্গে সমস্যা থাকে, আমি তার সঙ্গেই সরাসরি কথা বলব, মিডিয়াতে নয়।

বছরের ভালো ঘটনা শুভশ্রীর গালে মিমির চুমু। বরফ গলল কীভাবে?
– বরফ তো কোনওদিন ছিলই না। ওটা তো লোকে ভেবে নিয়েছে। শুধু লোকে ভাবছে বলে, আর বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হবে বলে, টিআরপি হবে বলে, আমি নিউজ করব– এমন যদি ভাবা হয়, আমি সেইভাবে চলতে পারব না। লোকের মনে হয়েছে, কারণ আমরা ইনস্টাগ্রামে ছবি দিইনি, বা ছবি তুলিনি, কিন্তু আমরা সবসময় আন্তরিক ছিলাম।

two tollywood actress Mimi-Subhasree in one frame over all the controversy
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

লোকের হয়তো মনে হয়েছে, থার্ড ফ্যাক্টরের জন্য।
– এক্ষেত্রে বলতেই হবে, মিডিয়া তাহলে অতীত থেকে বেরতে পারেনি। অতীত টেনে আনার তো দরকার নেই। কিন্তু আমাদেরটা যেহেতু বিক্রি হয়, সেটা নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে।

আপনাকে এখানে দীপিকার সঙ্গে তুলনা করা হয়। দীপিকা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। এখানে টলিউডে
নায়ক-নায়িকার পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে অনেকটা তফাত। কিছু বলবেন?
– আগেও বলেছি। পারিশ্রমিকের বৈষম্য আছে। সবসময় থাকবে এখানে। কারণ দেখেছি যদি আমি কোনও ছবি টাকার জন্য ছেড়ে দিই, সেখানে কিছু টাকা না দিয়েই আরেক জন প্রযোজক হিরোইন পেয়ে যাচ্ছেন। এটা থামবে না। যদি লোকজন সরব না হয়।এখানে একতা না থাকলে কিছু হবে না। আমি সিঙ্গল ইন্ডিভিজুয়াল, আমার বলায় কী যায় আসে। আমাকে কেউ ব্যাক করার নেই ইন্ডাস্ট্রিতে। প্রায় সকলের কেউ না কেউ আছে। আজকে তাদের চারটে ছবি ফ্লপ করলেও জানে, বাড়িতে বসে চারটে ছবি চলে আসবে, তাদের জন্য গল্প লেখা হবে, সবাই তো সবার নিজের প্রোডাকশন হাউসে কাজ করছে। আর কী কথা বলব!

মিমি কি নিজের প্রোডাকশন হাউস খুলতে পারেন না?
– না, চাই না কোনওদিন। যেটা পারি সেটাই করি।

ছবি বাছার ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি কোনটা স্ক্রিপ্ট না পারিশ্রমিক?
– চিত্রনাট্যের সঙ্গে পারিশ্রমিকও খুব ম্যাটার করে। যেমন বিকিনি শুটের জন্য অনেক কিছু লাগে, ট্রেনার, খাবার দাবার, নিয়ম মেনে চলা ইত্যাদি। আমাকে যাদের সঙ্গে তুলনা করছ, তাদের রেমুনারেশন যদি দেখো, তাদের এক-চতুর্থাংশও আমি পাই না। তাই বলছি, তুলনার দরকার নেই।

সুজিত সরকারের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছেন। ‘রক্তবীজ ২’ দেখার পর তো হিন্দিতে অফার আতেই পারে।
– (হাসি) এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। শুধু ‘রক্তবীজ ২’ নিয়ে বলব।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.