সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হলেও একাধিকবার পদবীর জেরে ‘দেশদ্রোহী’ খোঁটা খেতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সিনেমায় তাঁদের অবদান ভুলে নেটপাড়াতেও বারবার দাবি করা হয়েছে, ‘পাকিস্তানে চলে যান।’ খোদ বলিউড পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীও অভিযোগ তুলেছিলেন, “কিং, বাদশা, সুলতানদের জন্যই বলিউড নষ্ট হচ্ছে।” স্বদেশে তো বটেই এবার পড়শি দেশেরও রোষানলে বলিউডের খান সাম্রাজ্য। পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেলে তিন খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেই নাকি পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতে প্রবেশ করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, দাবি পাক অভিনেত্রীর। কারণ বলিউডের প্রথম সারির তারকারা, এমনকী খানেরাও তাঁদের ভয় পান! ‘ক্যায়া ড্রামা হ্যায় আনকাট ভার্সন’-এর এক পর্বে জনপ্রিয় পাক অভিনেত্রী তথা সঞ্চালিকা নাদিয়া খান বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ওই চ্যানেলে তিনি বলেন, “বলিউডে কাজ করার পর ফাওয়াদ খান এবং অন্যান্য পাকিস্তানি শিল্পীরা ভারতে এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন যে ওদের মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির তারকারা, এমনকী খানেরাও অস্তিত্ব সংকটে ভুগতে শুরু করে। তাই ‘উরি হামলা’র পর ছক কষে পাকিস্তানি শিল্পীদের নিষিদ্ধ করে দেয় ভারত। যাতে আমাদের পাক শিল্পীরা আর ওদেশে প্রবেশ করতে না পারে। শুধু যে ভারতীয় নেতা-মন্ত্রীদেরই পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্যা রয়েছে, এমনটা নয়! ওদেশের শিল্পীরাও ভয় পেয়ে গিয়েছিল।”
[আরও পড়ুন: ভোটের মুখে রাইমাকে হুমকি! ‘সুচিত্রার নাতনি হয়েও প্রোপাগান্ডা ছবিতে কেন?’ চিন্তায় সেন পরিবার]
নাদিয়ার সংযোজন, “আসলে পাক শিল্পীদের দক্ষতা দেখেই ভারতীয়রা এতটাই পছন্দ করেছিল যে ভয় পেয়ে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি বিলাল এবং ওয়াহাজই তার প্রমাণ। ভারতে ওদের প্রচুর ভক্ত রয়েছে। শাহরুখ, আমির, সলমনরাও ভয় পেয়ছিল যে, পাকিস্তানের অভিনেতারা যদি ভারতে এত জনপ্রিয় হয়ে যায়, তাহলে আমাদের কী হবে?” আর পাক অভিনেত্রীর এমন মন্তব্য ভাইরাল হতেই ভারতীয়রা খেপে উঠলেন। পালটা কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না। তাঁদের একাংশের প্রশ্ন, ‘নাদিয়া আপনার মাথা ঠিক আছে তো?’ কারও কটাক্ষ, ‘ভ্রমে থাকারও একটা সীমা আছে।’ আরেকজনের রসিক মন্তব্য, ‘আপনি কি নেশা করেছেন?’ কারও খোঁচা, ‘একেবারে মূর্খ।’ এককথায়, ভারতীয়রা নেটপাড়ায় নাদিয়াকে সবক শেখালেন।
I need her delusion pic.twitter.com/TVDBuP754j
— Ash (@ashilikeit) April 3, 2024