সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২৫ অক্টোবর, শনিবার ইহলোকের মায়া কাটিয়ে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেন টেলিদর্শকমহলের প্রিয় ‘সারাভাই’। সতীশ শাহর আচমকা প্রয়াণের খবরে শোকাচ্ছন্ন সিনেইন্ডাস্ট্রি। বিশেষ করে, শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সতীশের ‘সারাভাই’ টিম। ইন্দ্রবদন সারাভাই যে আর নেই- মনে পড়লেই ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন সারাভাই সিরিয়ালের সহকর্মীরা। সোমবার স্মরণসভাতেও সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। তবে এহেন শোকের আবহে নেটভুবনে ভাইরাল এক হৃদয়বিদারক মুহূর্ত।
রবিবার সতীশের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকের পরিচালক দেবেন ভোজানি, প্রযোজকদ্বয় আতিশ কাপাডিয়া, জেডি মাজেঠিয়া-সহ টিমের সকলে। ভিলে পার্লের পবন হংস শ্মশানে বন্ধুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়, রাজেশ কুমার, সুমিত রাঘবনরাও। সেখান থেকেই একটি দৃশ্য আপাতত নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। যেখানে দেখা যাচ্ছে, শ্মশানে সতীশের জ্বলন্ত চিতার সামনে দাঁড়িয়ে করজোড়ে সমবেত কণ্ঠে ‘সারাভাই’ সিরিয়ালের টাইটেল ট্র্যাক গাইছেন সহকর্মীরা। প্রিয় বন্ধুকে বিদায় জানানোর এর থেকে আর ভালো উপায় কী-ই বা হতে পারে! গাইতে গাইতে কেউ চোখের জল মুছছেন তো কেউ বা আরেক সহকর্মীকে সামাল দিচ্ছেন। বিশেষ করে, শত সান্ত্বনা দিয়েও রূপালির চোখের জল রোখা যাচ্ছে না! এহেন ‘আবেগপ্রবণ রিইউনিয়ন’ মুহূর্ত দেখে চোখ ভিজেছে নেটদুনিয়ার বাসিন্দাদেরও! তবে একাংশ আবার ভ্রুযুগল আন্দোলিত করে প্রশ্ন ছুড়েছেন, ‘শোকের আবহে গান গাইতে পারলেন কীভাবে?’ যার উত্তর দিয়েছেন ‘সারাভাই’পরিচালক খোদ।
ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিও শেয়ার করে দেবেন ভোজানি জানান, ‘আপনাদের হয়তো এটা দেখে অদ্ভূত মনে হবে! আমাদের পাগলও ভাবতে পারেন। কিন্তু জানেন, আমরা যখন একসঙ্গে জড়ো হতাম, তখন ‘সারাভাই’ টিমের সকলে কণ্ঠ ছেড়ে এই গানটিই গাইতাম। তাই আজও এর অন্যথা করতে চাইনি। মনে হচ্ছিল, যেন ইন্দু (সতীশ) নিজেই আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল।’ সেই ভিডিও দেখে নেটবাসিন্দাদের একাংশের মত, এহেন রিইউনিয়ন বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি কেউ!
প্রসঙ্গত, বিগত চার দশকের অভিনয় কেরিয়ারে সতীশ শাহ যেমন টেলিদর্শকমহলে ‘কাছের মানুষ’ হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তেমনই বিভিন্ন সময়ে সিনেপর্দায় শাহরুখ-সলমনের মতো তাবড় তারকাদের মাঝেও নিজস্ব অভিনয়গুনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৮৩ সালে কুন্দন শাহের স্যাটায়ার জঁরের ছবি ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ সিনেমায় অভিনয় করে সাড়া ফেলেন। পরবর্তীতে ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘কাল হো না হো’, ‘কভি হাঁ কভি না’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে ‘ওম শান্তি ওম’-এর মতো একাধিক সুপারহিট সিনেমায় নজর কেড়েছেন।