সন্দীপ্তা ভঞ্জ: বিগত একশো বছরে ভারতীয় সিনেমার পথিকৃৎ হিসেবে হীরালাল সেন কিংবা দাদাসাহেব ফালকের নাম নেওয়া হলেও তাঁদের সঙ্গে স্মরণ করা হয় সেই মানুষটিকে, যিনি কিনা ভারতীয় চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বের আঙিনায়। প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালি’, সেটাই মাস্টারপিস! পরিচালক, লেখক, সংগীতকার যেমন ছিলেন, তেমনই সত্যজিত রায়ের খেরোর খাতাতেও তাঁর অঙ্কন প্রতিভা এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার প্রকাশ পেয়েছে। বিজ্ঞাপন জগতেও তাঁর অবদান অনবদ্য। বহু গুণের অধিকারী। তিনি মহারাজাই বটে! বাঙালির গর্ব। তাই আজ, ২মে তাঁর শততম জন্মদিন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তরফে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হল সত্যজিৎ রায়কে। সেই মানুষটিকে, যিনি কিনা বাংলা তথা ভারতের রেঁনেসা যুগের এক উজ্জ্বল প্রতিভা।
সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তরফে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে প্রকাশ করা হল একটি বিশেষ ছবি- ‘আ রে অফ জিনিয়াস’। ৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের এই ট্রিবিউট ফিল্মের পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতনামা পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরি এবং সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র সম্পাদক অর্ঘ্যকমল মিত্র। দেশজুড়ে এই লকডাউনের মাঝেই তৈরি করা হয়েছে এই ছবি। সত্যিই তো, যাঁর জন্মদিনে আজ গোটা চলচ্চিত্র জগৎজুড়ে সাজো সাজো রব হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো হচ্ছিল আয়োজনও। কিন্তু ভাঁটা পড়ল এই কঠিন মহামারীর কারণে। কিন্তু তা বলে কি মহারাজার জন্মদিন পালন থেকে বিরত থাকা যায়! সেই ভাবনা থেকেই সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে ‘আ রে অফ জিনিয়াস’। এই ছবিতে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক নিমাই ঘোষের তোলা বেশ কিছু ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: ‘মহারাজা শতবর্ষে তোমারে সেলাম’, সত্যজিৎ স্মরণে ‘ইস্কুলে বায়োস্কোপ’]
“সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে যখন আমাদের কাছে এই প্রস্তাব এল, তখন খানিক চিন্তাতেই পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। কারণ, সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে একটা ট্রিবিউট ফিল্ম তৈরির জন্য কলকাতায় যাওয়াটা আবশ্যক, যাবতীয় খুঁটিনাটি সবই রয়েছে কলকাতায়, কিন্তু আমরা এই মুহূর্তে বসে রয়েছি মুম্বইতে। এটা খুব বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। গোটা দেশে লকডাউনের জন্য যাওয়াও সম্ভব নয়”, মন্তব্য পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরির। যদিও পরে সন্দীপ রায় এবং রে সোসাইটির তরফে যথাযথ সাহায্য পেয়েছেন অনিরুদ্ধ এবং অর্ঘ্যকমল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শামিল হয়ে ‘আ রে অফ জিনিয়াস’-এর মাধ্যমে এভাবেই শতবর্ষে ‘গুরুপ্রণাম’ জানিয়েছেন বাংলার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পীদ্বয়।