অভিরূপ দাস: আচমকা রাস্তায় জগিং করতে করতে টয়লেট পেয়ে গিয়েছিল। শহরের অভিজাত এক ক্লাবে প্রস্রাব করতে ঢুকতেই জুটল গলা ধাক্কা। ভেসে এল, কুরুচিকর মন্তব্য। “শালা এখানে কি করছিস?” এমন ঘটনা ঘটেছে যাঁর সঙ্গে সেই অভিনেতা, বাচিকশিল্পী সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় হতবাক! তাঁর কথায়, “মানবিকতা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় যদি আচমকা কারও প্রস্রাব পায় তাহলে যদি কেউ হাতজোড় করে বাথরুমটা ব্যবহার করতে চায় তার জন্য গায়ে হাত দেওয়া হবে!”
সোশ্যাল সাইটে এই ঘটনা ছড়িয়ে পরতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। অভিনেত্রী মনামী ঘোষ থেকে লেখিকা সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। অভিনেত্রী রনিতা দাস বলেছেন, “এরা কারা? যাঁরা সহনাগরিককে বাথরুম ব্যবহার করার জন্য অশ্রাব্য কথা বলেন তাঁরাও শহরের অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ পান! এর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা উচিত।” মনোবিদ রত্নাবলি রায় প্রশ্ন তুলেছেন, “এ কোন কলকাতা যেখানে সহনাগরিকের বাথরুম ব্যবহারের প্রয়োজন হলে তাঁকে গলাধাক্কা দেওয়া হয়? হোক না অভিজাত ক্লাব। আদৌ কি এই শহর নিরাপদ এখন?”
[ আরও পড়ুন: প্রয়াত অভিনেতা সুশান্তের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে তৃণমূলের লোগো কেন? অভিষেককে তোপ বাবুলের ]
ঘটনার পর সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “দক্ষিণ কলকাতার সার্দান অ্যাভিনিউয়ের ওই অংশে কোনও পাবলিক টয়লেট নেই। ক্লাবের দারোয়ানের অনুমতি নিয়েই আমি টয়লেটে যাই। নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক গ্লাভস পরেছিলাম। কিন্তু এমন ঘটনা যে হবে ভাবতেই পারছি না।” বছর তিনেক আগে পার্ক স্ট্রিটের এক রেস্তোরায় এক ট্যাক্সি ড্রাইভারকে ঢুকতে দেয়নি মালিকপক্ষ। তা নিয়ে কম হইচই হয়নি। ফের শহরের অমানবিক মুখের সাক্ষী হলেন বাচিক শিল্পী সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।