সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে জামিনে ছাড়া পেলেন নাট্যকার জয়রাজ ভট্টাচার্য। শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ জয়রাজকে ব্যাংকশাল আদালতে তোলা হয়েছিল। এদিন ৫০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে জামিন মঞ্জুর করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
শুক্রবার সন্ধেবেলা নাট্যকারের শিবপুরের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বছর সাতেক আগে জয়রাজের বিরুদ্ধে আইনভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলার শুনানিতেই আদালতে গরহাজির ছিলেন জয়রাজ। কামদুনি ধর্ষণের প্রতিবাদ মিছিলে আইনভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছিল নাট্যকর্মীর বিরুদ্ধে। বেআইনিভাবে জমায়েত করা, তাতে যোগ দেওয়া এবং সরকারি কর্মচারিদের কাজে বাঁধা দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল জয়রাজের বিরুদ্ধে। সেই সংক্রান্ত মামলায় আদালতে গরহাজির থাকার অভিযোগে নাট্যকর্মীকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছিল হাওড়া পুলিশ।
[আরও পড়ুন: সংসদীয় কাজের জন্য ‘তুমি অনন্যা’ পুরস্কার পেলেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান]
জামিন পাওয়ার পর জয়রাজের বক্তব্য, তিনি আগে ওই মামলায় হাজিরা দিতেন। এছাড়া আদালতের তরফেও তাঁর কাছে কোনও সমন আসেনি। তাসত্ত্বেও কেন তাঁকে পলাতক হিসাবে দেখানো হয়েছে? প্রশ্ন তুলেছেন নাট্যকার। পাশাপাশি জয়রাজের দাবি, CAA, NRC নিয়ে প্রতিবাদের জন্য তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে। ২০১৩ সালের একটি মামলায় ২০২০ সালে পদক্ষেপ করা হচ্ছে কেন? এই প্রশ্ন তুলে তিনি এও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এত কিছুর পরও তিনি বা তাঁরা দমে যাবেন না। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ চলছিল এবং চলবেও।
নাটকের দুনিয়ায় পরিচিত মুখ জয়রাজ ভট্টাচার্য। প্রথম জীবনে তিনি ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের (আইপিটিএ) হয়ে বহু পথনাটিকায় অভিনয় করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে যোগ দেন ‘চেতনা’য়। সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘তিস্তাপারের বৃতান্ত’ বা ‘অসময়ের বৃতান্ত’ নাটকেও অভিনয় করেন তিনি। সুমন মুখোপাধ্যায় ছবি ‘হারবার্ট’ ছবিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু ছবি পরিচালনাও করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, নাট্যকর্মী জয়রাজের গ্রেপ্তারির খবরে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। শুক্রবার সংস্থার কর্মীরা শিবপুর থানায় যান।