Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
আলু বীজ

ঊর্ধ্বমুখী আলু বীজের দাম, চাষের খরচ বাড়ায় মাথায় হাত কৃষকদের

মহাজনদের ধার শোধের পর লাভ বেশি থাকবে না ভেবে হতাশ আলুচাষিরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ১৪:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ১৪:২০

options
link
ঊর্ধ্বমুখী আলু বীজের দাম, চাষের খরচ বাড়ায় মাথায় হাত কৃষকদের zoom

টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: সদ্য শুরু হয়েছে আলুর মরশুম। নভেম্বর থেকেই সাধারণত আলু চাষের কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই কাজে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে আলু বীজের দাম। অন্তত এমনটাই অভিযোগ বাঁকুড়ার আলু চাষিদের। সার, কীটনাশক এবং মজুরি যে হারে বাড়ছে তাতে আলু চাষে আদৌ লাভ হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কায় খোদ জেলার চাষিরাও।

চলতি বছর আলু চাষের মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। জলদি জাতের আলু চাষ করছেন চাষিরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, আলু বীজের দাম বেড়ে গিয়েছে বিগত কয়েক বছর থেকে কয়েকগুণ বেশী। গত বছরের শুরুতেই বস্তা পিছু (৫০ কেজি) আলু বীজের দাম ছিল ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। পরে যদিও আমদানি কম থাকায় টাকার পরিমাণ বেড়ে হয়েছিল ১৬০০ টাকা। এবার প্রথমেই বস্তা পিছু (৫০ কিলো) আলুবীজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০০ থেকে ২৬০০ টাকায়। সার, কীটনাশক, সেচ খরচ গত বছরই ছিল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। তার আগের বছর বিঘা প্রতি খরচ পড়ে ছিল ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। এবার জলদি চাষের আলুতেই খরচ পড়ছে বিঘা প্রতি ২৫০০০ টাকা।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Potato

কৃষকরা জানিয়েছেন, চাষের জন্য বিঘা প্রতি তিন বস্তা আলু বীজ প্রয়োজন। তাহলে বীজ কিনতেই যা খরচ উঠছে, তার থেকে লাভ কতটা হবে তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরাও। কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, বাঁকুড়ায় আলু চাষের উপর অনেক চাষিই নির্ভরশীল। কম বেশি সব শহরেরই বীজ আলু বিক্রি হয়। তবে এ জেলায় আলুর বীজের বাজার বিষ্ণুপুর মহকুমার কোতুলপুর আর জয়পুর। এবার মরশুমের শুরুতে আলু বীজের দাম এত চড়া কেন? আলুবীজ ব্যবসায়ী কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ প্রামাণিক বলেন, “সাধারণত পাঞ্জাব থেকে বীজ আনা হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোডই প্রায় ৭০ ভাগ বীজ সরবরাহ করে। এবারে পাঞ্জাবে চাহিদার তুলনায় এখন বীজের আমদানি কম। তাই শুরুতেই বীজের দাম এত চড়া। পরে আরও বাড়বে কি কমবে সব চাহিদা অনুযায়ী নির্ভর করছে।” বীজের দাম লাগাম ছাড়া হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

তাঁদের অভিযোগ, বছর বছর আলু চাষে খরচ বাড়ছে, অথচ অভাব-সহ নানা কারণে আলু চাষিদের বেশিরভাগই লোন পান না। জেলার ৯০ শতাংশের বেশি কিষাণ ক্রেডিট কার্ড হয়ে গিয়েছে। লোন নিতে চাষিদের বিমাও হয়ে যায়। চাষের কোনও ক্ষতি হলে চাষিরা পুরো টাকাটাই বিমা সংস্থা থেকে পেয়ে যাবেন। তাহলে লোন মেলে না কেন? চাষিরা জানাচ্ছেন, ব্যাংক লোন নিতে গেলে জমি বন্ধক রাখা-সহ আরও বেশ কয়েকটি সমস্যা থাকায় তাঁরা বিমা করাননি। সেই কারণে এই সমস্যা। তাই বাধ্য হয়ে এ জেলার বেশিরভাগ চাষিকে মহাজনদের উপর নির্ভর করতে হয়। মহাজনদের উপর নির্ভরশীল হলে সহজেই চাষিরা বীজ, সার-সহ নগদ টাকাও পান। আর আলু ওঠার পরই যা দাম হবে সেই দামেই বিক্রি করতে তাঁরা বাধ্য হন। ফলে লাভ হয়না বললেই চলে।

[আরও পড়ুন: কেনার চিন্তা ছেড়ে বাড়িতে টবেই করুন পিঁয়াজ চাষ, জেনে নিন পদ্ধতি]

জয়পুরের আলু চাষি আবদুল মিদ্যা, কোতুলপুরের হাসাবুল মল্লিক, সঞ্জীব গরাইরা বলছেন, “ফি বছর আমরা তিন চার বিঘা করে আলু চাষ করি। আলু তুলে টাকা শোধ করে দিই। বাকি যা থাকে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।” জেলার কৃষি বিপণন দপ্তরের কর্তা মহম্মদ আকবর আলি বলছেন, “ব্যাংক লোন নিলে চাষিরা যখন খুশি বিক্রি করতে পারবেন। এতে দু’পয়সা লাভ বেশি পাবেন চাষিরা। কিন্তু জেলায় মহাজনী প্রথা না কমলে ছোট চাষিদের এটাই সার। লাভের গুড় সেই মধ্যসত্ত্বভোগীরাই ভোগ করবেন।”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.