সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হাতে মোবাইল। অথচ বেড়াতে গিয়ে একটা সেলফি তোলা হবে না? তাও আবার হয়! বর্তমান প্রজন্ম অন্তত সেলফি ছাড়া সেলিব্রেশনের কথা ভাবতেই পারে না। আর সেই সেলফিই ফের বিপদ ডেকে আনল। ফের ঘাতক হয়ে দেখা দিল সেলফির নেশা। সেলফির মরণ ফাঁদে পড়ে সলিল সমাধি হল আট বন্ধুর।
গ্রুপ সেলফি তুলতে গিয়ে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ঘটল দুর্ঘটনা। নাগপুরের বেনায় নৌকাবিহার করতে করতেই বন্ধুর জন্মদিন পালনের পরিকল্পনা করেছিলেন বাকিরা। তিনজন মাঝি ছাড়াও নৌকায় ছিলেন আট বন্ধু। নৌকায় চড়ার আগে একটি ফেসবুক ভিডিও পোস্ট করেন ওই আটজন। এতদূর পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। তবে তারপরই ঘটে বিপত্তি। নৌকায় গ্রুপ সেলফি তুলতে গিয়ে নৌকা একদিকে হেলে যায়। তখনই জলে ডুবে মৃত্যু হল ওই আট পড়ুয়ার। উদ্ধার করা হয় তিনজনকে। অপর একটি সূত্রের খবর, দুর্ঘটনায় ফলে ১১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।

[হিন্দি পাঠ্যপুস্তক থেকে গালিবকে ছেঁটে ফেলতে উদ্যোগী আরএসএস]
রবিবার সন্ধে ৬টা নাগাদ বন্ধুরা একসঙ্গে গান-গল্প, আড্ডা, হুল্লোড়ে মেতেছিলেন। সেই আনন্দের মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে পোস্টও করা হয়। প্রতিটা আনন্দের মুহূর্ত স্মৃতির কোঠায় আবদ্ধ না রেখে ক্যামেরাতেই ধরে রাখতে পছন্দ করে বর্তমান প্রজন্ম। উল্লাসের ছবি গোটা বিশ্বকে জানান দেওয়াই এখন নয়া ট্রেন্ড। এই আট বন্ধুও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ তাঁরা একটি নৌকাভাড়া করেন। কলামেশ্বরের বেনা জলাধারে সবাই মিলে সেলফি তুলতে গিয়ে নৌকা একপাশে চলে আসতেই তা উলটে যায়। নৌকা উলটে যেতেই স্থানীয় এক ডুবুরি দু’জন মাঝি ও এক ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। বাকি মৃতদেহের খোঁজে ডুবুরি নামানো হয়।
দেখুন ভিডিও:
পুলিশ অফিসার সুরেশ ভোয়াত জানান, নৌকোয় থাকা প্রত্যেকেরই বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি কাছাকাছিই ছিলেন। তিনিই পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সদস্যরা। রবিবার রাতেই উদ্ধার করা হয় তিনজনের দেহ। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।
[খরচে কুলোচ্ছে না, নিরামিষ হচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়ার ইকোনমি ক্লাস]
উল্লেখ্য, সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যানে বিশ্বের মধ্যে এক নম্বরে ভারত। কয়েকদিন আগে প্রকাশিত এই সমীক্ষার পর ফের সেলফিই হল মৃত্যুবাণ।