সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: যৌন হেনস্তার বিচার চেয়ে গায়ে আগুন দেওয়া ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ওড়িশা। কংগ্রেস-সহ আটটি দলের ডাকা ১২ ঘণ্টার বন্ধে স্তব্ধ বিজেপি শাসিত এই রাজ্য। সকাল থেকেই গোটা ওড়িশাজুড়ে এই বন্ধের ব্যাপক প্রভাব দেখা গেল। বন্ধ ছিল সমস্ত দোকানপাট। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা ছিল না বললেই চলে। বিচারের দাবিতে এদিন পথে নেমেছিল একাধিক বিরোধী দল। কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয়, তার জন্য গোটা রাজ্যেই মোতায়েন করা হয়েছিল বাড়তি পুলিশ।
ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ভক্ত চরণ দাস বলেন, “এই বন্ধ কেবল রাজনৈতিক নয়। মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আজ এই বন্ধ ডেকেছি। এখনই যদি পদক্ষেপ করা না হয়, তাহলে রাজ্যের প্রতিটি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।” সিপিএম নেতা সুরেশ পানিগ্রাহী বলেন, “মেয়েটি রাজ্য সরকার, পুলিশ, শিক্ষামন্ত্রী প্রত্যেকের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। আমরা গোটা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাদেরও দাবি আমরা জানাচ্ছি। স্থানীয় বিধায়কের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ওড়িশায় অধ্যাপকের যৌন হেনস্তার বিচার চেয়ে ভরা ক্যাম্পাসে গায়ে আগুন দিয়েছিলেন ছাত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসকদের বহু চেষ্টা সত্ত্বেও সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত অধ্যাপককে। কিন্তু ওই ছাত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়েই প্রতিবাদে নেমেছে একাধিক বিরোধী দল। ভুবনেশ্বর এইমসে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই ছাত্রী। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েই হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন। গোটা ঘটনাটিকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা’ বলে তোপ দেগেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যথিত ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘সবচেয়ে যন্ত্রণার বিষয় হল, এই মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা নয়। যে সিস্টেমের উচিত ছিল তাঁকে সাহায্য করা, সেই সিস্টেমই চুপ করে থেকে তাঁকে হত্যা করেছে।’ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী সূর্যবংশী সূরজের পদত্যাগ, গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের মতো একাধিক দাবিতে বৃহস্পতিবার বন্ধের ডাক দেয় সিপিএম, বিজেডি, কংগ্রেস-সহ আটটি দল।