সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাত্র দুই দিনের জীবন। তার মধ্যেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হল এক সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ভোপাল শহরের অযোধ্যা নগর এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে। ভোপাল ( Bhopal) পুলিশের কাছে ফোন এলে তারা জানতে পারে, অযোধ্যা নগর এলাকার একটি মন্দিরের পাশে সদ্যোজাত শিশুকন্যার দেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান পুলিশ কর্মীরা। সেখানে গিয়ে দেখেন, একটি শালের মধ্যে শিশুকন্যার দেহটি মোড়ানো রয়েছে। বুক এবং পিঠে অজস্র ক্ষতচিহ্ন। সদ্যোজাতের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
[আরও পড়ুন: বৈধ পরিচয়পত্রের প্রয়োজন নেই, ৮ লক্ষ যৌনকর্মীকে রেশন দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের]
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, মন্দিরের বাইরে হয়তো সদ্যোজাতকে কেউ ফেলে রেখে গিয়েছিলেন। তারপর বন্য পশুর হামলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পর চমকে ওঠেন দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। একরত্তির গায়ে অন্তত ১০০ বার ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নাকি জানানো হয়েছে, স্ক্রু ড্রাইভারের মতো সরু ধারাল অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে সদ্যোজাতকে আঘাত করা হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে ভোপাল পুলিশ। মন্দিরের সামনের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শিশুটি যে শাল দিয়ে মোড়ানো ছিল। তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। শিশুকন্যা বা কন্যাভ্রূণ হত্যার ঘটনা এ দেশে নতুন নয়। অযাচিত শিশুকন্যাকে রাস্তায় কিংবা কোনও নির্জন স্থানে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার চলও রয়েছে। কিন্তু দুই দিনের শিশুকন্যার প্রতি কী এমন আক্রোশ থাকতে পারে যে এতটা নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হল? এই প্রশ্নই উঠছে বিভিন্ন মহলে। উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে।