সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রবল বর্ষণ ও তার ফলে সৃষ্টি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির জেরে মধ্যপ্রদেশে এখনও পর্যন্ত ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২২ লক্ষেরও বেশি চাষি। প্রাণ হারিয়েছে ১৪০০ বেশি গবাদি পশুও। এই পরিস্থিতির জেরে কেন্দ্রের কাছে এই ঘটনাকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘোষণা করার অনুরোধ করেছে কমল নাথ সরকার।
[আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লি পর্যন্ত মিছিলের জের, আখ চাষিদের ৫টি দাবি মানল কেন্দ্র]
গত বৃহস্পতিবার এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেছেন মধ্যপ্রদেশ প্রশাসনের আধিকারিকরা। ছিলেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকরাও। ওই বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মধ্যপ্রদেশের তরফে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে, রাজ্যের ৫২টি জেলার মধ্যে ৩৬টি জেলা প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবছর সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত মোট ১,২০৩. ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এখানে। যা স্বাভাবিকের থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি। এর ফলে ২২ লক্ষ চাষির ২৪ লক্ষ হেক্টর জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। এর ফলে মোট ৯,৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টি ও বন্যার জেরে বহু জায়গায় রাস্তা ও কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। যাতে ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকার। সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের পশ্চিম অংশে থাকা বিদিশা, রাইসেন, রাজগড়, মান্দসোর ও আগর মালওয়া জেলায়। সমগ্র পরিস্থিতি আলোচনা করে কেন্দ্রের কাছে ১১,৯০৬ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য চেয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে প্রচুর জায়গায় জল জমে সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বন্যাকবলিত এলাকা থেকে দুর্গত মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। ত্রাণ সামগ্রীও সরবরাহ করছেন।