সংবাদ প্র্তিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনার প্রকোপে ধাক্কা খেয়েছে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা। এমনকী, অনেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখা হয়েছে। এমন কঠিন সময় নজির গড়ল মু্ম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল। লকডাউনের মাঝেই এই হাসপাতাল প্রায় পাঁচশো ক্যানসার রোগীর অপারেশন করেছে। প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যেও এতগুলি জটিল অপারেশন করে নজির গড়ল এই হাসপাতাল।
দেশে আনলক ওয়ান পর্ব পেরিয়ে গেল এক সপ্তাহ। তবে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের নতুন নতুন রেকর্ডে আনলক টু নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ফের না লকডাউনের পথে হাঁটতে হয়, এই চিন্তা থাকছেই। দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ ২০ হাজার ৯২২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯১৯৫ জনের। এমন পরিস্থিতিতে ধাক্কা খেয়েছে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা। কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ৪৯৪ জনের জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে।
[আরও পড়ুন : ৩ গুণ হচ্ছে পরীক্ষা, দেওয়া হবে ৫০০ রেলের কোচ! দিল্লিকে করোনামুক্ত করতে দরাজ কেন্দ্র]
জানা গিয়েছে, এমন কিছু রোগীরও অপারেশন হয়েছে যাঁদের বয়স অনেকটাই বেশি। সঙ্গে ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। আপাতত সকলেই ভাল আছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ করোনা সংক্রমিত হননি। তবে এমন সংকটকালীন পরিস্থিতিতে এতজন রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো নিসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রসঙ্গত, নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনেও টাটা মেমোরিয়ালের একদল চিকিৎসক লিখেছেন, মহামারীর সময়েও তাঁরা প্রতিদিন ১৬০০ রোগীর চিকিৎসা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডেপুটি ডাইরেক্টর শৈলেশ ভি শ্রীখণ্ড যেমন জানালেন, সব চিকিৎসকরাই রোগীদের স্বার্থে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। এই বছরে নতুন করে দেশের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত। এঁদের মধ্যে অনেকেই এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, অস্ত্রোপচার জরুরি। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯’র সংক্রমণের ফলে দেশে এখনও যত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে সময়মতো অপারেশন না হওয়ার কারণে সেই মৃত্যুহার অনেক বেশি হবে ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে। সেই হার কমাতেই বদ্ধপরিকর টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল।